যুবলীগের নেতা পরিচয়ে মাদক ব্যাবসা পুলিশের হাতে ইয়াবা সহ আটক ২, পালাতক ১

যুবলীগের নেতা পরিচয়ে মাদক ব্যাবসা পুলিশের হাতে ইয়াবা সহ আটক ২, পালাতক ১

শাহজাহানপুরে ইয়াবা ব্যাবসায়ী জুয়েল শাহরিয়ার দীর্ঘ ৬ মাস ধরে যুবলীগের কিছু অসাধু নেতাকে ম্যানেজ করে ও তাদের নামে ব্যানার ফেস্টুন করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও মাদক ব্যবসা করে আসছিলো।

গতকাল হোন্ডা দিয়ে মুগদা এলাকায় ইয়াবার চালান দিতে গেলে বিশ্বরোড থেকে পুলিশের হাতে আটক হয় ২ জন।পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৬০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে জুয়েল শাহরিয়ার এর সহযোগী শান্ত ও জুয়েলকে আটক করে। আর পুলিশ ওই ২ জনকে চেক করার সময় জুয়েল শাহরিয়ার কৌশলে হোন্ডা নিয়ে রং রোড দিয়ে পালিয়ে যায়।

মুগদা থানার ওসি এ সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শান্ত ও জুয়েল কে ৬০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে। আমরা মামলা করে থানায় আসামিদেরকে প্রেরণ করেছি। এর আগেও জুয়েল শাহরিয়ার এর বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ ও দুইটি মামলা আছে। আটককৃতরা হলেন, মো: আশরাফুল ইসলাম শান্ত (২৩) ও মো: জুয়েল (১৯)।

মুগদা থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, দুই ইয়াবা কারবারিকে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের নামে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে।

আরও বলেন, শাহজাহানপুর এলাকাতে দিন দিন মাদকের জমজমাট কারবার বেড়েই চলছে। যাদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করে তারা আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে দ্রুতই বেরিয়ে এসে পুনরায় মাদক কারবারে জোড়ালোভাবে নেমে যায়। এতে আস্তে আস্তে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে শাহজাহানপুর যুবসমাজ। মাদক থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করার জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

এ ছারা আরও যানা যায়, মতিঝিল, শাহজাহানপুর, রামপুরা, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা এলাকার পুরো নিয়ন্ত্রন রয়েছে রিফাতের হাতে। আর জুয়েল শাহরিয়ারকে দীর্ঘ দিন ধরে সাহায্য করে আসছেে এই রিফাত। আর এই রিফাত ও জুয়েল শাহরিয়ারকে এতসাথে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন বর্তমান ১১ নং ওয়ার্ড সাবেক ৩৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হত্যা মামলার আসামি এই সেই সোহেল শাহরিয়ার। যে কিনা এখন যুবলীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে নিজেকে দাবি করছেন।

শাহজাহানপুর ১১নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ এর সভাপতি  হত্যা মামলার ১নং আসামী সোহেল শাহরিয়ার ওরফে শর্টগান সোহেল। হত্যার পর সে কানাডা পালিয়ে যান এবং বহুদিন কানাডা থাকে এবং সিটিজেন হয়ে যায়। হত্যা মামলার আসামী এবং কানাডার সিটিজেন আবার হতে চায় মহানগর যুবলীগ এর বড় নেতা। হত্যা মামলার পড়য়ানা না করে দেশে আসেন এই শর্টগান সোহেল। শুরুতেই দখল করেন রাজধানীর শাহজাহানপুর তার পর শুরু হয় হয় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি।

মাদক ব্যবসা ছারাও খিলগাঁও-শাহজাহানপুর হয়ে চলাচলকারী লেগুনা ও গণপরিবহন থেকে নিয়মিত টাকা দিতে হয় এই সোহেলকে। প্রতি কোরবানির ঈদে শাহজাহানপুর কলোনি মাঠ, মেরাদিয়া ও কমলাপুর পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। খিলগাঁও রেল ক্রসিংয়ে প্রতিদিন রাতে মাছের একটি হাট বসান এই নেতা। সেখান থেকে মাসে কমপক্ষে এক কোটি টাকা আদায় করেন তিনি। একইভাবে খিলগাঁও কাঁচাবাজার ও প্রতিটা ফুট থেকেও টাকা আদায় করে থাকেন।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536