সৈয়দপুরে কাশিরাম ইউপি চেয়ারম্যানের ভিজিএফ’র চাল আত্মসাতের ঘটনা ধামাচাপা দিতে গোপনে সংবাদ সম্মেলন

সৈয়দপুরে কাশিরাম ইউপি চেয়ারম্যানের ভিজিএফ’র চাল আত্মসাতের ঘটনা ধামাচাপা দিতে গোপনে সংবাদ সম্মেলন

 
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেয়া ভিজিএফ’র চাল আত্মসাত ও স্লিপ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা ধামাচাপা দিতে গোপনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইউপি চেয়ারম্যান। ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছার আগেই তদন্তের ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করে অভিযোগ মিথ্যে বলে বক্তব্য দিয়ে বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের অপচেষ্টা করা হয়েছে। এমন অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান ও  তদন্ত কমিটিসহ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এটাকে তুষ দিয়ে আগুন ঢাকার অপচেষ্টা বলে গুন্জন উঠেছে সচেতন মহলে। সে সাথে যথাসময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে গড়িমসির অভিযোগও তুলেছে কেউ কেউ। কারন তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে তদন্ত কমিটির প্রধান ও সদস্যরাসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সংবাদকর্মীসহ কোন পক্ষের কাছেই মুখ খুলতে অস্বীকৃতি জানালেও চেয়ারম্যান কিভাবে সে সম্পর্কে আগাম মতামত ব্যক্ত করেছেন সংবাদ সম্মেলনে। তাই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে উপজেলা জুড়ে।
জানা যায়, গত ২৯ জুলাই বুধবার সকালে উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নে ভিজিএফ’র চাল তুলতে গিয়ে চাল না পেয়ে বিক্ষোভ করে প্রায় সহস্রাধিক স্লিপধারী হতদরিদ্র মানুষ। এসময় তাদের চাল নেই বলে চলে যেতে বলে চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল হক চৌধুরী ও ইউপি সচিব মোঃ রহিদুল ইসলাম । তাদের মধ্যে অনেকের স্লিপ তুলে নিয়ে পরে চাল বা টাকা দেয়া হবে বলে পুড়িয়ে ফেলা হয় স্লিপ।  এতে উপস্থিত জনগন উত্তেজিত হয়ে উঠলে পরিস্থিতি সামাল দিতে খবর পেয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উপস্থিত হন। এসময় চাল না পেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষারত মানুষেরা অভিযোগ করেন যে চেয়ারম্যান ও সচিব চাল বিতরণে নিয়োজিত ট্যাগ অফিসার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমানের সমঝোতায় চাল বিক্রি করে দিয়েছেন। তাই স্লিপ প্রাপ্তদের চাল দিতে পারছেন না। তাই তারা গরীব মানুষগুলোর কাছ থেকে স্লিপ নিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছেন।
এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আবু হাসনাত সরকারের মধ্যস্থতায় চেয়ারম্যান ২৫০ জন স্লিপধারী চাল পায়নি স্বীকার করে পরের দিন চাল দেয়ার আস্বাস দেন। সে অনুযায়ী পরেরদিন ২৫০ জন কে বাজার থেকে ক্রয় করা চাল দেয়া হয়। তারপরও প্রায় শতাধিক স্লিপধারী আজও চাল পায়নি।
এঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চাল আত্মসাৎ ও স্লিপ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। এতে প্রধান করা হয় উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রাসেদুল হক। সদস্য ছিলেন উপজেলা বিআরডিবি অফিসার আল মিজানুর রহমান ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান। তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয় কমিটিকে।
এ তদন্ত কমিটির প্রধান ডাঃ রাসেদুল হক জানান, গত ৫ আগস্ট তারা তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তদন্ত সম্পর্কে কোন তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যথাযথভাবে তদন্ত করেছি এবং প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করেছি। এ ব্যাপারে কোন কিছুই বলার ইখতিয়ার আমাদের নাই। চেয়ারময়ান সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যপারে কোন মন্তব্য করে থাকলে তা অনুমান নির্ভর। কেননা এ সম্পর্কে কেউই কিছু জানার কথা নয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসিম আহমেদ গত ১০ জুলাই জানান, বৃহস্পতিবারই (৬ জুলাই) সিলগালা প্যাকেট করে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য বিষয়ে তিনিও কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। কেউ তদন্ত রিপোর্ট সম্পর্কে আগাম মন্তব্য করে থাকলে তা তাদের ব্যাপার। তিনি বলেন প্রতিবেদন অনুযায়ী জেলা প্রশাসক পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন।
এদিকে জেলা প্রশাসক গত ১০ জুলাইও প্রতিবেদন পাননি বলে জানা যায়। কিন্তু তার আগেই গত ৯ জুলাই গোপনে গুটি কয়েকজন সংবাদকর্মী নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল হক চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আখতার হোসেন বাদল। এতে চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয় এবং তদন্ত কমিটিও কোন অনিয়ম বা দূর্নীতির তথ্য পায়নি বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন ইউনিয়নের ৭টি এতিমখানা ও মাদরাসায় চাল দেয়ার কারনে সংকট সৃষ্টি হয়। তাই মাত্র ২৫০ জন স্লিপধারী চাল পায়নি প্রথম দিন। পরের দিন চাল কিনে তাদেরকে দেয়া হয়েছে তদন্ত কমিটির উপস্থিতিতেই।প্রশ্ন উঠেছে চেয়ারম্যান কীভাবে নিশ্চিত হয়েছেন যে, তদন্ত কমিটি কোন অনিয়মের তথ্য পায়নি। তবে কি তদন্তের সাথে সম্পৃক্ত কেউ তাকে প্রতিবেদনের তথ্য সরবরাহ করেছে। তাই সে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য চাপ সৃষ্টি করা বা প্রকৃত সত্যকে আড়াল করতে সংবাদ সম্মেলনের নামে ধামাচাপার চেষ্টা করেছেন।
উল্লেখ্য, কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নে মাত্র চারটি এতিমখানা ও মাদরাসা রয়েছে।  অথচ চেয়ারম্যান বলেছেন ৭টিতে তিনি চাল দিয়েছেন। ভিজিএফ’র চাল প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় দেয়ার কোন নিয়ম নাই। এ চাল শুধুমাত্র ব্যক্তি পর্যায়ে বিতরণ করার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এখানেও অনিয়ম ও মিথ্যেচার করা হয়েছে।
তাছাড়া ট্যাগ অফিসার মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেছেন, ঘটনার দিন তিনি ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার আগেই চেয়ারম্যান ও সচিবসহ লোকজন চাল দেয়া শুরু করেন। কিছু লোককে দেয়ার পর দেখা যায় লোকজনের উপস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত চালের মজুদ ছিলনা। এতে স্লিপধারী প্রায় ৪শ’ মানুষ চাল না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে উঠে। অথচ চাল দেয়া হয়েছে মাত্র ২৫০ জনকে। বাকিরা এখনও চাল পায়নি। এই চাল না পাওয়া ৮ জন ব্যাক্তি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

বুলবুল আহমেদ নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের মালগুদাম এলাকা থেকে সিএনজি সিলিন্ডার ভর্তি ট্রাক জব্দ করেছেন আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সান্তাহার পৌর শহরের উম্মুক্ত জায়গায় ঝুকিঁপূর্ন ভাবে পাইপের মাধ্যমে গ্যাস কেনাবেচা হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ বিন রশিদ সোমবার ভোরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধ ভাবে গ্যাস বিক্রির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
অবৈধ ভাবে গ্যাস বিক্রি বন্ধের জন্য গত ৫ সেপ্টেম্বর আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সান্তাহার মালগুদাম এলাকার ব্যবসায়ি ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠন। অভিযোগে জানা যায়, সান্তাহার পৌর এলাকার মিজানুর রহমান দীর্ঘ দিন ধরে গভীর রাতে ট্রাকে সিলিন্ডার রেখে বিভিন্ন যানবাহনে অবৈধ ভাবে গ্যাস বিক্রি করে আসছেন। বগুড়ার সিএনজি ষ্টেশন থেকে ট্রাকে করে গ্যাস সিলিন্ডার আনা হয়। একটি ট্রাকে বড় আকারের ২০ থেকে ৩০ টি সিলিন্ডার থাকে। শহর মানুষ শুন্য হলে গভীর রাতে ট্রাকের সিলিন্ডার থেকে পাইপের মাধ্যমে সিএনজি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য যানবাহনে গ্যাস বিক্রি হয়। দুরত্ব ও খরচ এড়াতে যানবাহনের মালিকরা ট্রাক থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে থাকেন। সান্তাহার শহরের ব্যবসায়ি ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের অভিযোগের ভিত্তিতে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ বিন রশিদ সোমবার ভোরে অভিযান পরিচালনা করে ১২টি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার সহ একটি ট্রাক জব্দ করেন। এ ব্যাপারে আদমদীঘি ইউএনও আবদুল্লাহ বিন রশিদ জানান, ট্রাকসহ সিলিন্ডার থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।

বগুড়ার সান্তাহারে গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি ট্রাক জব্দ করলেন ইউএনও

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ট্রলির সাথে মোটর সাইকেলের মুখোমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে মোটর সাইকেলের চালক নিহত হয়েছে।  তার নাম সুমন মোহাম্মদ তুষার (৩৫)। তিনি দিনাজপুরের পার্বতীপুরের গুলপাড়ার জুলফিকার আলীর পুত্র। পার্বতীপুর স্টেশনে বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী লোকোমাস্টার (সহকারী ট্রেন চালক) হিসেবে কর্মরত।
পুলিশ জানায়, ১৬ আগস্ট  রোববার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মোটর সাইকেল যোগে সৈয়দপুর থেকে পার্বতীপুরে যাওয়ার সময় সৈয়দপুর উপজেলার সীমানা এলাকার চৌমুহনী বাজারে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রলির সাথে মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় সুমন।
এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা বোন ও ভাগিনী গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করায়।৷

সৈয়দপুরে ট্রলি-মোটরসাইকেল মুখোমুখী সংঘর্ষে সহকারী লোকো মাস্টার সুমন নিহত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বুলবুল আহমেদ নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের মালগুদাম এলাকা থেকে সিএনজি সিলিন্ডার ভর্তি ট্রাক জব্দ করেছেন আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সান্তাহার পৌর শহরের উম্মুক্ত জায়গায় ঝুকিঁপূর্ন ভাবে পাইপের মাধ্যমে গ্যাস কেনাবেচা হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ বিন রশিদ সোমবার ভোরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধ ভাবে গ্যাস বিক্রির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
অবৈধ ভাবে গ্যাস বিক্রি বন্ধের জন্য গত ৫ সেপ্টেম্বর আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সান্তাহার মালগুদাম এলাকার ব্যবসায়ি ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠন। অভিযোগে জানা যায়, সান্তাহার পৌর এলাকার মিজানুর রহমান দীর্ঘ দিন ধরে গভীর রাতে ট্রাকে সিলিন্ডার রেখে বিভিন্ন যানবাহনে অবৈধ ভাবে গ্যাস বিক্রি করে আসছেন। বগুড়ার সিএনজি ষ্টেশন থেকে ট্রাকে করে গ্যাস সিলিন্ডার আনা হয়। একটি ট্রাকে বড় আকারের ২০ থেকে ৩০ টি সিলিন্ডার থাকে। শহর মানুষ শুন্য হলে গভীর রাতে ট্রাকের সিলিন্ডার থেকে পাইপের মাধ্যমে সিএনজি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য যানবাহনে গ্যাস বিক্রি হয়। দুরত্ব ও খরচ এড়াতে যানবাহনের মালিকরা ট্রাক থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে থাকেন। সান্তাহার শহরের ব্যবসায়ি ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের অভিযোগের ভিত্তিতে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ বিন রশিদ সোমবার ভোরে অভিযান পরিচালনা করে ১২টি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার সহ একটি ট্রাক জব্দ করেন। এ ব্যাপারে আদমদীঘি ইউএনও আবদুল্লাহ বিন রশিদ জানান, ট্রাকসহ সিলিন্ডার থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।

বগুড়ার সান্তাহারে গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি ট্রাক জব্দ করলেন ইউএনও

themesbazartvsite-01713478536