চাকুরির আশায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

চাকুরির আশায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

বরাবর,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, পুরাতন সংসদ ভবন, তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫

বিষয়: হয়তো একটি চাকুরী দিন অন্যতায় এক ফোঁটা বিষ দিন।

দেশরত্ন “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী”
যথবিহীত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক বিনীত নিবেদন পত্রের শুরুতে সালাম ও সুভেচ্ছা জানাচ্ছি। মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আপনি ভালো আছেন ইনশআল্লাহ ভালো থাকবেন। আদর্শ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বাংলাদেশের উন্নয়নে সীমাহীন সাফল্যে আপনি এখন বিশ্বনেতাদের শীর্ষ স্থানে উপনীত। উন্নত, সমৃদ্ধশালী এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে আপনার বিকল্প একমাত্র আপনিই। আপনি সেই জাতির পিতার সুযোগ্যকন্যা “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা”।
স্বাধীনতার স্থপতির সুযোগ্য কন্যা “শেখ হাসিনা”
আন্তরিকতার সাথে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের অগ্রনায়ক ও নেতৃত্বদানকারীর স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলা শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাঙালি জাতির পিতা “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান”-কে। যতোদিন বেঁচেছিলেন; তন্মধ্যে জন্ম থেকে কৈশোরের আগের সময়টুকু ছাড়া জীবনের পুরোটা সময় ব্যয় করেছেন বাংলার গরীব, অসহায়, এতিম, মেহনতি ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। তিনি যে সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয় এ নীতিতে বিশ্বাস করতেন তাই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে এবং আপনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিজেকে একজন দয়িত্ববান নাগরিক হিসেবে বেদনা ভারাক্রান্ত মন নিয়ে ভালোবাসার দৃঢ় আবেগের মণিকোঠা থেকে সবচেয়ে আপন মানুষ ভেবে এই চিঠি খানা লিখলাম।
মমতাময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী “শেখ হাসিনা”
আমি একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের পিতৃমাতৃহীন এতিম সন্তান। আমার নাম মো: আনোয়ার উল্লাহ পিতা মৃত নেয়ামত উল্লাহ মাতা মৃত শিরিন আকতার। গ্রামের বাড়ি বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম। আমরা এক ভাই এক বোন। ছোট বেলা মায়ের মমতা, স্নেহ ও ভালোবাসা কী তা বোঝার পূর্বে মা মৃত্যুবরণ করেন। তারপর বাবার আদরযতেœ বড় হয়ে উঠি একমাত্র বোন ছিল সেও ভুল চিকিৎসায় মারা যায়। আমি নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়ি আল্লাহর রহমতে আবার সুস্থ হয়ে উঠি। শেষ পর্যন্ত বাবা বিভিন্ন অসুস্থয় ভোগেন। তিনিও ২০১৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। আমি এতিম হয়ে গেলাম। আপন রক্তের সম্পর্ক বলতে আমার আর কেউ নেই। আমার বাবার অনেক বড় ইচ্ছা ছিল আমি লেখাপড়া করে অনেক বড় হব। কিন্তু পরিবারিক বিভিন্ন সমস্যা ও শারীরিক অসুস্থার কারণে অল্প লেখাপড়া করছি। এখন আমি বিবাহিত ও এক কন্যা সন্তানের বাবা। এখন আমার একটি স্থায়ী চাকুরীর প্রয়োজন যা ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য পথ চলতে সাহায্য করবে। বিগত বেশ কয়েক বছর যাবত আমি চাকুরীর জন্য আবেদন করে আসছি। পত্র-পত্রিকায় কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পেলে আমি তা পড়ে আনন্দের সাথে আবেদন করে থাকি। এই পর্যন্ত আমি সরকারি, বেসরকারি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে মোট ১০০ শত-এর উপরে আবেদন করেছি। তার মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রবেশপত্র পেয়েছি এবং পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আগামী দিনগুলোতে চাকুরীর জন্য আবেদন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ পরীক্ষা ফি, আসা-যাওয়া খরচ ইত্যাদি এই অল্প টাকা খরচ করার মতো সামর্থ্য ও তেমন নেই বয়স ও ফুরিয়ে এসেছে। এক সময় আমাদের সবই ছিল কালের বিবর্তনে ও বাপ দাদার ভুলের কারণে তা হারিয়ে যায় এখন শুধু থাকার বাড়িটি আছে যা মহান আল্লাহর এক অশেষ রহমত। বর্তমানে আমি একটি পাবলিক প্রতিষ্ঠানে কমপিউটার অপারেটর হিসাবে চাকুরী করছি।
আমি যা উপার্জন করি তা দিয়ে বর্তমান সমাজে টিকে থাকে খুবই কঠিন তারপরও মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে টিকে আছি। তাই ব্যথিত চিত্তে, অশ্র“সজল চোখে একজন এতিমের অভিভাবক হিসেবে আমি আপনার নিকট একটি চাকুরীর প্রার্থনা করছি। যা আপনার মানবতা ও মহানুবভতার বিশাল ভান্ডার হতে বিন্দুমাত্র ফোঁটা আমার স্ত্রী ও কন্যা সন্তানকে আনন্দিত ও উৎসাহিত করবে এবং বাকী জীবনের পথ চলতে সাহায্য ও সাহস বৃদ্ধি করবে।
জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী “শেখ হাসিনা”
আমাকে ক্ষমা করবেন নিরুপায় হয়ে আজ আপনাকে অতি আগ্রহের সহিত অশ্রসজল চোখে আপনার নিকট একটি চাকুরীর আবেদন করছি। আপনাকে এবং আপনার সার্বিক উন্নয়নেগড়া ডিজিটাল বাংলাদেশকে প্রাণপণ ভালোবাসি আমার ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা ডিজিটার বাংলাদেশ গড়তে দৃঢ় প্রত্যয়ে আপনি তথা এ দেশের নাগরিদের সহিত সহযোগিতাসহ সাহসিকতার সাথে এগিয়ে চলা আমার একান্ত কাম্য। আমার লেখায় কোনো ভুল-ক্রুটি থাকলে অবশ্যই সেটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
আদর্শ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সত্য ও অন্যায়ের প্রতীক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী “শেখ হাসিনা”
বিগত বেশ কয়েক বছর যাবত যে সকল প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছি তার পূর্ণ তথ্য আমার কাছে না থাকলেও তবে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের পদবী, আবেদনের তারিখ, প্রতিষ্ঠানের নাম, প্রবেশ পত্র ও পরীক্ষার তারিখ এবং উল্লেখিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তারিখ ও পত্রিকার নাম আপনার সমীপে সদয় বিবেচনার জন্য সন্নিবেশ করলাম।
অতএব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী-এর নিকট আকুল আবেদন আমার সকল তথ্যাদি সুবিবেচনার মাধ্যমে আমাকে একটি চাকুরী দানে সাহায্য করলে আমি আমার স্ত্রী সন্তান নিয়ে আল্লাহর রহমতে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারিব ইনশআল্লাহ। খোদা হাফেজ আল্লাহ আপনার সহায় হোক।

নিবেদক
জাতির পিতার আঠারেকোটি সন্তানের মধ্যে আমি এক এতিম সন্তান
মো: আনোয়ার উল্লাহ
মোবাইল : ০১৮৬৭-১৭১১৬৯

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রিবেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর আয়োজন করেছে বৈলতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ

২৪শে আগস্ট শনিবার সকাল ১১টায় জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় বৈলতলী বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় ও জাফরাবাদ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনা সভা, লিফলেট বিতরন ও বৃক্ষ বিতরন করা হয়। ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় পাচঁশত চারাগাছ বিতরণ করা হয়।

এতে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি খোরশেদুল আলম ইমতিয়াজ

বৈলতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুল হক চৌধুরী রিকনের সভাপত্ত্বিতে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বৈলতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল মোস্তফা দুলাল।       

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বৈলতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক দেবু দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান সানি, দপ্তর সম্পাদক নোমান উদ্দীন রুবেল। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা ওহিদুল ইসলাম বিপুল তালুকদার, মোঃ তৌহিদ, রোকন উদ্দীন, সাফায়াত হোসেন সবুজ, মোঃ জালাল, জয়া প্রমুখ।

বৈলতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত।

অারিফুজ্জামান অারিফ, বিশেষ প্রতিনিধি 
বাহ্মণবাড়িয়া:
গ্রীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র আয়োজনে সরাইল সরকারি কলেজ প্রাঙ্গনে বিনামূল্যে গাছ বিতরণ অনুষ্ঠান এবং মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ঢাকা মহানগর শিক্ষা কমিটির সদস্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা রুম টু রিড এর আফজালুর রহমান রিপন এর বক্তব্য ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সরাইল সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল শিক্ষাবিদ মৃধা আহমাদুল কামাল।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পিস ভিশন বাংলাদেণ এর সভাপতি, সরাইলের কৃতি সন্তান এড. শেখ জাহাঙ্গীর, সাধারন সম্পাদক,বিশিষ্ট সংগঠক, তিতাস বার্তার উপদেষ্টা শরীফ আহমেদ খান, সরাইল সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শহিদুল ইসলাম মামুন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শরিফ সিদ্দিক, বিশিষ্ট সংগঠক, এডমিন প্রাউড ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিচালক কোহিনুর আক্তার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের মেধাবী ছাত্রী ও সংগঠক তাছলিমা নাছরিন, লস্কর পাপিয়া জান্নাত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
“নিজে বাঁচি পরিবেশ বাচাঁই
চলো সবাই সবাই গাছ লাগাই”
এই শ্লোগান কে সামনে রেখে এ সংগঠনের উপজেলা পর্যায়ের ৮ম প্রোগ্রাম।
গ্রীণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া হচ্ছে অনলাইন ও অফলাইন ভিত্তিক সেবামূলক, অব্যাবসায়িক ফেইসবুকভিত্তিক সংগঠন। যার মাধ্যমে বিনামূল্যে গাছ শেয়ারিং ও কেয়ারিং করে থাকে।

সংগঠনটি সরাইল সরকারি কলেজে ফুলের গাছ রোপনসহ ত্রিশজন শিক্ষার্থীকে বিনামূলে গাছ প্রদান করেছে।

গ্রীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র আয়োজনে সরাইল সরকারি কলেজ প্রাঙ্গনে বিনামূল্যে গাছ বিতরণ অনুষ্ঠান

themesbazartvsite-01713478536