কুষ্টিয়ায় ডুবুরী না থাকায় অনেকের মরদেহ পর্যন্ত উদ্ধার সম্ভব হয় না

কুষ্টিয়ায় ডুবুরী না থাকায় অনেকের মরদেহ পর্যন্ত উদ্ধার সম্ভব হয় না

সুজন কুমার কর্মকার, কুষ্টিয়া:কুষ্টিয়া জেলায় পদ্মা গড়াইসহ বেশকিছু ছোট বড় নদী রয়েছে। যেখানে প্রতিবছরই ওই সব নদীর পানিতে ডুবে মৃত্যু হয় এমন ব্যক্তির সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু এ জেলায় ডুবুরী না থাকায় যাদের মৃত্যু হয় তাদের অনেকের মরদেহ পর্যন্ত উদ্ধার সম্ভব হয় না। আবার কারো কারো মরদেহ উদ্ধার হয় দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর। যা লাশ শনাক্তেও পরিবার স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আবার কারো মৃতদেহ পর্যন্ত উদ্ধার হয়না। যে কারনে তাদের পরিবার স্বজনদের মাঝে দিনের পর দিন চলে নিরব আহাজারি। এদিকে কুষ্টিয়ার ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঢাল তলোয়ার ছাড়াই ডুবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষের উদ্ধারের চেষ্টা করে এবং অপেক্ষা করতে থাকে কখন খুলনা থেকে ডুবুরি আসবে।
যদিও খুলনা থেকে ডুবুরি এসে কুষ্টিয়াতে পৌঁছাতে সময় লাগে ৫/৬ ঘন্টা। ততক্ষণে ডুবন্ত ব্যক্তি নদীর স্রোতে তলিয়ে যায়। কখনো বা তাকে খুঁজতে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ডুবুরীদের পানির তলদেশে তল্লাসী চালাতে হয়। এতে একদিকে যেমন দীর্ঘ সময় অতিবাহীত হয় অন্য দিকে নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের আশংকা ততটাই হতশায়-দুশ্চিন্তায় পরিণত হতে থাকে। কখনো কখনো ডুবে যাওয়া নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে বা অনেককে খুঁজে না পেয়ে উদ্ধার কাজের সমাপ্তি ঘোষণা দেয়া হয়।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আলী সাজ্জাদ বলেন, কুষ্টিয়া প্রতিবছর গড়ে ৪/৫ জন পানিতে ডুবে মারা যায়। এই স্টেশনে ডুবুরি টিম নেই। ডুবুরি টিম থাকলে আমরা ডুবন্ত মানুষকে দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার করতে সক্ষম হোতাম। কেউ নদীতে ডুবে গেলে আমাদের খুলনা স্টেশন থেকে ডুবুরি টিম না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এতে প্রায় ৫/৬ ঘন্টা ডুবুরি টিমের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এতক্ষণ অপেক্ষার কারণে ডুবন্ত মানুষকে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় ডুবে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তি স্রোতে ভেসে অনেক দূরে চলে যায়। হতাশার কথা হলো এই জেলায় পদ্মা ও গড়াই নদীর মত বড় নদী রয়েছে, কিন্তু এখানে কোন ডুবুরি টিম নেই।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া ঘোড়ারঘাট এলাকায় এক ব্যাংক কর্মকর্তারা গোসল করতে এসে ডুবে যায়। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ডুবন্ত ব্যাংক কর্মকর্তা রাফসানকে খুঁজে না পেয়ে খুলনা স্টেশন থেকে ডুবুরি টিম আনি। সেই ডুবুরি টিম আসতে আসতে ৫ ঘন্টা লেগে যায়। বিকেল ৬টা থেকে ডুবুরি টিম খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং রাত ৯ টার সময় বন্ধ করে। পরের দিন ২৯ মে শুক্রবার সকালে রাফসান এর লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস এর ডুবুরি টিম।
কুষ্টিয়া পেসক্লাবের সাধারণ সমম্পাদক ও দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক  আনিসুজ্জামান ডাবলু বলেন, প্রতিবছরই এ জেলায় নদীর পানিতে ডুবে অনেকের প্রাণহানি ঘটে। কিন্তু এ জেলায় ডুবুরী টিম না থাকায় ডুবে নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারে বিলম্ব হয়। কুষ্টিয়াতে ডুবুরী টিম থাকলে ডুবে যাওয়া মানুষদের তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযানে নামলে হয়ত তাদের মধ্যে অনেককে জীবিত উদ্ধার সম্ভব। কেউ ডুবে নিখোঁজ হলে তাৎক্ষণিক ডুবুরী দলের সদস্যরা তল্লাসী চালালে জীবিত হোক আর মৃত হোক তাকে দ্রুত উদ্ধার সম্ভব।
এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, কুষ্টিয়ায় ডুবুরি টিমের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী করেছেন কুষ্টিয়াবাসী।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আকলিমা রশীদ ঢালীপিংকী , কসবা প্রতিনিধি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের দুরুইল গ্রামে ফেসবুকে লেখা আর রাস্তাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের পরিকল্পিত হামলায় জিলানীর বাড়িঘর দোকানপাট ভাংঙ্গচোর-আহত ৪,ধানায় মামলা গ্রেফতার-৪ সংবাদ পাওয়া যায়।
ঘটনা প্রকাশ,ফেসবুকে লেখা আর রাস্তার তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের দুরুইল গ্রামে দীর্ঘদিন থেকে দুই পক্ষের মাঝে বিরোধ চলমান রয়েছে বলে গ্রামবাসী জানান। এর জের ধরে একই গ্রামের মোবারক হোসেন মানিকের নেতৃতে সোলেমান মিয়ার পুত্র শাহীন আল মামুন লাঠিয়াল বাহিনীর গ্রামে চরম উওেজনা বিরাজ করছে বলে গ্রামের উওর পাড়ার লোকজন তাও জানান।
মোবারক হোসেন মানিকের জনবল,লাঠি বল,অর্থবলে গ্রামের সাধারণ মানুষকে মানুষ বলে মনে না করে যখন যা মনে চায় তাই করেন বলে ক্ষতিগ্রস্থরা তাও জানান। তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না বলেও জানান। মোবারক হোসেন মানিক এর নেতৃত্বে একদল যুবক ফেসবুকে মিথ্যা কাল্পনিক কথা লিখে গ্রামে অপ প্রচারসহ জমি জমা দখল করার বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে।
গত ৮ জুলাই দিনের প্রায় সাড়ে তিনটায় ফেসবুকে লেখা আর রাস্তার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোবারক হোসেন মানিকের হুকুমে শাহীন আলম মামুনসহ ৩০/৪০জন দাঙ্গাবাজ হাতে রাম দা,রড,হকস্টীক লাঠি সোটা নিয়ে একই গ্রামের উওর পাড়ার মৃত মিরণ মিয়ার পুত্র জিলানীর বাড়ি ঘর দোকান পাটে ফিম্মিটাইলে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধনসহ লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে।
তাদের ফিম্মিটাইলের হামলায় মো: চুনি মিয়া (৭৫),মোছাম্মদ সুলতানা বেগম(৩৫), জুলেখা বেগম(২৪), মো:বাবুল মিয়া(৩২)সহ ৪জন গুরুত্বর অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে মামলা বাদী মো: জিলানী সাংবাদিকদেরকে জানান। এর মধ্যে মো: চুনি মিয়া ও মোছাম্মদ সুলতানা বেগম কুমিল্লা মেডিক্যাল হাসপাতালে আস্কজনক অবস্থায় আছেন।
এই ঘটনায় শাহীন আলম মামুন (৩০), উজ্জল মিয়া (৪০),রমজান (২৫) ,রাসেল(২৫)সহ ১৫জনকে আসামী করে কসবা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। কসবা থানা মামলা নং-১৯। ঘটনার সংবাদ পেয়ে কসবা থানা পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা অব্যাহত চালিয়ে ঐদিনই দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রসহ শাহীন আলম মামুন, উজ্জল মিয়া,রমজান ও রাসেলকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃতদেরকে ৯ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে প্রেরণ করেন। মামলার তদন্ত র্কমর্কতা কসবা থানার এস আই মো:আনোয়ার হোসেন গ্রেফতারের সততা স্বীকার করেন এবং অন্য আসামীদেরকে গ্রেফতারের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন বলে সাংবাদিকদেরকে জানান। ক্ষতিগ্রস্থরা ঘটনার অন্তরালে মূল নায়ক ও হুকুমদাতা মোবারক হোসেন মানিকের নির্দেশে লাঠিয়াল শাহীন আলম মামুন,উজ্জল,ফরহাদ,জামাল,সুমন,মশিউর রহমান রাঙ্গা,সমুন মিয়া গংদের কবল থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে আইনমন্ত্রীর কাছে ন্যায়বিচার দাবী করছেন।
অপর দিকে দায়েরকৃত মামলা তুলে না নিলে মামলার বাদী ও তার পরিবারের সদস্যসহ স্বাক্ষীদেরকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে ঘটনার অন্তরালে মূল নায়ক হুকুমদাতা মোবারক হোসেন মানিক সহ তার লোকজন বলে মামলার বাদী জিলানী সাংবাদিকদেরকে জানান।
দিন দুপুরে লাঠিয়ালবাহিনীর দল নেতা শাহীন আলম মামুনসহ তার সঙ্গবদ্ধ দল রাম দা,লৌহার রড,মহকস্টিক নিয়ে প্রকাশ্য হামলাসহ বাড়ি ঘর দোকানপাটে তাগুব চালানোর ঘটনাটি নিন্দাজ্ঞাপন করে গ্রামের সচেতনমহল ন্যায় বিচার দাবী করেছেন আইনমন্ত্রীর কাছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দোকানপাট ভাংঙ্গচোর আহত ৪ গ্রেফতার ৪

themesbazartvsite-01713478536