মানুষের উদাসীনতায় সামনে দেশের জন্য আরো কঠিন সময় আসছে : কাদের

মানুষের উদাসীনতায় সামনে দেশের জন্য আরো কঠিন সময় আসছে : কাদের

অনলাইন ডেস্ক :ঈদের সময় গ্রাম-শহরের মানুষের অবাধ বিচরণ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে কেউ কেউ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেও অনেকের উদাসীনতা সামনে ভয়াবহ বিপদ ডেকে দেশের জন্য আরো কঠিন সময় আসছে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ওবায়দুল কাদরে বলেন, প্রাণঘাতী এ ভাইরাস থেকে রেহাই পেতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের কোনো বিকল্প নেই। ঈদের সময় ও এর প্রাক্কালে গ্রামে ও শহরে মানুষের অবাধ বিচরণ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। সামনের কঠিন সময় আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। ধৈর্য হারা না হয়ে সাবধানতা অবলম্বন করি।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সরকারি নিজ বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষের মধ্যে শৈথিল্য ভাব সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ মানুষের মধ্যে ধৈর্য ও শৃংখলার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে অবস্থান করলেও অনেকেই এসব কানে তুলছেন না। স্বাভাবিক সময়ের মতো ঘোরাফেরা করছেন হাট-বাজারে, ভিড়ে সমাগমে অংশ নিচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মেনে চলছেন না। এ উদাসীনতায় নিজে ও আশপাশের সবার ভয়ানক বিপদ ডেকে আনছেন। অবনতি ঘটেছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগের। এতে শহরে গ্রামে সর্বত্রই সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে।

ওবায়দুল কাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দয়া করে আসুন সবাই সচেতন হই। স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মেনে চলি। কারণ প্রতিকার সমাধান নয়, এ ভাইরাস থেকে বাঁচতে ও সুরক্ষা পেতে প্রতিরোধের বিকল্প নেই। আপনার সামান্যতম শৈথিল্য নিজ পরিবার এবং পার্শ্ববর্তী সবার জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে।

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস আক্রান্ত বিশ্বের ২১৫টি দেশ এবং অঞ্চলসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানের আরো অবনতি হয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ২৩তম। এর সংক্রমণ থেকে ছোট-বড়, ধনী-গরিব কেউই রেহাই পাচ্ছে না। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস থেকে রেহাই পেতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার তথা সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সামনের কঠিন সময় আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। আগামী কিছুদিন পরিস্থিতি বাংলাদেশে আরো কঠিন হবে বলেও বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ধৈর্য হারা না হয়ে সাবধানতা অবলম্বনের জন্য আবারও আহ্বান জানাচ্ছি। যারা ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধ করেছেন তাদেরও মনোবল না হারিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াইয়ের অনুরোধ জানাচ্ছি। আপনারা মনে সাহস রাখুন, ধৈর্য ধরুন। সংকট ও দুর্যোগের সাহসী নেতৃত্ব শেখ হাসিনা ও তার সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। জনগণের সহযোগিতা নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তার আঁধার কাটিয়ে উঠব ইনশাল্লাহ।

বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, করোনা সংকটের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের উদ্যোগ ও গৃহীত এবং বাস্তবায়িত সিদ্ধান্ত যখন দেশ-বিদেশে প্রশংসিত তখন মির্জা ফখরুল সাহেবেরা পুরনো নেতিবাচক রাজনীতির বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে। সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদের দিনে মানুষের পাশে না থেকে, মানুষকে সাহস না জুগিয়ে তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার মরচে ধরা সমালোচনার তীর ছুড়েছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত। নিজেরা জনগণের পাশে দাঁড়াবেন না, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেবেন না অথচ মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা করবেন, এটাই কি বিএনপির রাজনীতি? ঈদের দিনেও জনগণ তাদের মুখে বিষ থেকে রেহাই পায়নি।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

 সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আতাউর রহমানের নামে থাকা বয়স্ক ভাতার কার্ডটি বাতিল করেছে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর। ওই কার্ডটি একজন প্রকৃত দুস্থের নামে করে দেওয়ার পাশাপাশি গত এক বছরে ওই কার্ডের বিপরীতে তোলা ভাতার টাকাও ইউপি সদস্যের থেকে ফেরত নিয়ে দুস্থকে প্রদান করা হয়েছে।
ইউপি সদস্য মোঃ আতাউর রহমান অনিয়ম করে নিজের নামে ২০১৯-২০২০ ইং অর্থবছরের বয়স্ক ভাতা কার্ড ইস্যু করে এক বছর ধরে ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন। এ নিয়ে সাংবাদিক শাহজাহান আলী মনন ও জাকির হোসেন বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল সহ দৈনিক পত্রিকায় “সৈয়দপুরে রানিং ইউপি মেম্বার পাচ্ছেন বয়স্কভাতা” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে। এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সত্যতা পেয়ে সৈয়দপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসের দূর্নীতিবাজ ইউনিয়ন সমাজকর্মী মোঃ শাহজাহান কে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে। পরে
গত ১৬ আগষ্ট বোববার বিকেলে উপজেলা পরিষদে কামারপুকুর ইউপির বাসিন্দা দিনমজুর মোঃ আবদুর রহমানের হাতে ওই বয়স্ক ভাতার কার্ড তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নাসিম আহমেদ। এ সময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হাওয়া খাতুন উপস্থিত ছিলেন।
সমাজসেবা কর্মকর্তা হাওয়া খাতুন বলেন, তদন্ত করে ওই ইউপি সদস্যের নামে বরাদ্দ করা বয়স্ক ভাতার কার্ড ইস্যু ও টাকা উত্তোলনের সত্যতা মিলেছে। তারপর পরই সেই কার্ড বাতিল করে উত্তোলিত টাকাসহ একজন প্রকৃত দুস্থের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন সমাজকর্মী ও সেই ইউপি সদস্যের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নাসিম আহমেদ বলেন, বয়স্ক ভাতার কার্ড দুস্থ বয়স্করা পাবেন এটা স্বাভাবিক। কিন্তু ইউনিয়ন মেম্বার পাচ্ছেন তা জানার পর পরই সাথে সাথে তা বাতিল করে দুস্থদের দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে সৈয়দপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসের অপর কর্মচারী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোঃ টুটুলের সাথে যোগ সাজশে পৌর মহিলা কাউন্সিলর কনিকা রানী কর্তৃক মৃত ব্যাক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ভাতা উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশ করে উক্ত দুই সাংবাদিক। এ ঘটনায় পৌর পরিষদের এক জরুরি সভায় তদন্ত কমিটি গঠন করেন পৌর মেয়র অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন সরকার। কিন্তু আজও সে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ বা অনিয়মের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ফলোআপঃ সৈয়দপুরের সেই ইউপি সদস্যের নামে বয়স্ক ভাতার কার্ড বাতিল করে দুস্থকে প্রদান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536