তরমুজের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে ডুমুরিয়ায়

তরমুজের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে ডুমুরিয়ায়

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা:সুজলা-সুফলা শস্য শ্যামলা ভূসর্গ হিসাবে পরিচিত খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা। খুলনা অঞ্চলের যে সবজি বা ধান হয়, তার সিংহভাগই আবাদ হয় এ উপজেলায়। বরাবরই খুলনার দাকোপ,বটিয়াঘাটা, কয়রা, পাইকগাছা তরমুজ আবাদের জন্য বিখ্যাত, কিন্তু এ উপজেলার সীমানা লংগন্ন এলাকাগুলোতে তরমুজ সেভাবে প্রবেশ করেনি। গতবছর বর্তমান কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন অত্র উপজেলায় যোগদানের পর অত্র উপজেলার শোভনা -তক্তামারী গ্রামের কৃষক কামাল বাওয়ালীকে ব্লুগোল্ড প্রকল্পের আওতায় একটি তরমুজ প্রদর্শনী দেন এবং কোম্পানির সহযোগিতায় প্রদর্শনীর বাইরেও কিছু বীজ দেন এবং তরমুজের জন্য বেছে নেন তার একফসলী পতিত জমি। গতবার প্রতিকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় দাকোপ- বটিয়াঘাটাতে ভাল তরমুজ না হলেও কামাল বাউয়ালীর তরমুজে বাম্পার ফলন হয় এবং তিনি তার ৫ বিঘা জমিতে ৯ লক্ষ পাঁচ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রয় করেন। তার এ সাফল্যে চারদিকে সাড়া পড়ে যায়। আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি- কৃষি বিভাগের তথ্য মতে এ বছর এ উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে, ফলন ও বাম্পার। এর অধিকাংশ তরমুজই আবাদ হয়েছে শোভনার বারুইকাটি, শোভনা তক্তামারি, মাগুরখালি শিবপুর, শরাফপুর, ঝালবুনিয়ার এক ফসলী পতিত জমিতে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় তুলনামূলক ভাবে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় তারা দামও বেশি পেয়েছে। তরমুজ একটি উচ্চ মূল্যের ফসল, মাত্র ৬০-৬৫ দিনে বিঘাপ্রতি ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ১ লক্ষ টাকার তরমুজ পাওয়া যায়। এটি আবাদে ধানের চারগুণ লাভ, স্বল্প জীবন কালিন এবং ঝুঁকি কম থাকায় কৃষক দিন দিন ঝুকছে এ ফসল আবাদের দিকে। বারুইকাটি গ্রামের কৃষক পবিত্র ঢালী বলেন-কৃষি অফিসে ট্রেণিং এসে স্যারের কাছে তরমুজের কথা শুনে আমি উদ্বুদ্ধ হয় এবং প্রথমবারের মত আমার ১.৫ বিঘা জমিতে ২০,০০০ টাকা খরচ করে ড্রাগন জাতের তরমুজ লাগায় ৬৫ দিনে এ তরমুজ ঢাকার পার্টির কাছে ৯৮০০০ হাজার টাকা বিক্রয় করেছি, এত লাভ আমি আর অন্য কোন ফসলে পায়নি। তিনি আরও বলেন আগামী বছর এ মাঠে পূরাটাই তরমুজ আবাদ হবে। শরাফপুর গ্রামের কৃষক মফিজুর রহমান বলেন আমিও কৃষি অফিসে টেরনিং গিয়ে তরমুজের কথা শুনে প্রথম বারের মত তিন বিঘা জমিতে পাকিজা ও ড্রাগন জাতের তরমুজ আবাদ করি, ফলন বাম্পার, দামও পেয়েছি বেশ, প্রায় ৩.৫ লক্ষ টাকা বিক্রয় করেছি, এটি বেচতে অন্য ফসলের মত সমস্যা হয়না, মাঠে পার্টি চলে আসে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, তরমুজ একটি স্বল্প জীবন কালিন উচ্চ মূল্যের ফসল, এটি অত্যন্ত লাভজনক, এটি লবনাক্ত সহনশীল এবং সেচ খরচ কম হওয়ায় এটির সম্প্রসারণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ডুমুরিয়া উপজেলায় আমন পরবর্তী সময়ে প্রায় ২৫০০ হেঃ জমি সাময়িক পতিত থাকে, এসমস্ত জমিতে তরমুজের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে, এই সমস্ত জমিকে টার্গেট করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এবং আগামীতে ব্যপক হারে তরমুজের আবাদ বৃদ্ধি পাবে।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536