ডেঙ্গুর ভয়াবহতা জাতিকে নাড়া দিয়েছে, আমরা সবাই সতর্ক: নাসিম

ডেঙ্গুর ভয়াবহতা জাতিকে নাড়া দিয়েছে, আমরা সবাই সতর্ক: নাসিম

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেছেন, ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সমগ্র জাতিকে নাড়া দিয়েছে। তাই আমরা সবাই সতর্ক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবোই। ঐক্যবদ্ধ জাতি অতীতের মতো ডেঙ্গু পরিস্থিতি ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করবে।

‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অব্যাহত রাখুন, ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলুন’ এই স্লোগানে আজ বুধবার বনানী ও নিকেতন এলাকা ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার জিপিও’র সামনে থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হবে।

 

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ডেঙ্গুর বিষয়ে জনগণ এখন সচেতন হয়ে গেছে। নিজেরা বাড়ি-ঘর পরিষ্কার রাখছে। এটা শুধু এই মৌসুম নয়, সারা বছরের প্রতিদিনের জন্য অব্যাহত রাখতে হবে। দুই সিটি মেয়রের উদ্দেশে তিনি বলেন, ডেঙ্গু এখন একটি উদ্বেগের বিষয়। অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এডিস মশা নিধনে মাঠে নামতে হবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে এসেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে আমরা বিজয়ী হবোই। এখন রাজনীতি করার সময় না। ঐক্যবদ্ধভাবে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামা প্রয়োজন। ঈদ যাত্রার বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব স্থানে মশার স্প্রে করতে হবে।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পাড়া-মহল্লায় ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করুন। দয়া করে সবাই বাড়ি-ঘর পরিষ্কার রাখবেন। ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জঙ্গি দমন হয়েছে। এখন দেশে শান্তির সুবাতাস বইছে। কেন, কী কারণে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজয়ী হতে পারবো না? আমাদের পারতেই হবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আক্তার এমপি, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, বাসদের রেজাউর রশীদ খান, গণআজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায় প্রমুখ।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমদাদুল হক,পাইকগাছা,খুলনা:পাইকগাছার গদাইপুর সুপারির হাট জমে উঠেছে। উপজেলার স্থানীয় এ সব হাট-বাজারে প্রচুর পরিমাণে সুপারি বিক্রি হচ্ছে। এ বছর সুপারির ফলন খুব বেশি ভাল হয়নি। তবে দাম আশানারূপ। এখন সুপারির ভরা মৌসুম চলছে। ফলে বাগান মালিক খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতারা সুপারি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে।
সুপারি বাংলাদেশের একটি অর্থকারী ফসল। সুপারি স্থানীয় সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাড়িয়েছে। সুপারি কাঁচা, শুকনা, মজানো-ভিজা পান পাতা দিয়ে মুড়িয়ে খিলি বানিয়ে খাওয়া হয়। সুপারি ছাড়া পানের পূর্ণতার কথা ভাবা যায় না। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সুপারি ব্যবহার হয়। অনেকের আবার শুধু সুপারি খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠির এক দশমাংশ সুপারি খান। শিশু, নারী ও পুরুষ সুপারি ব্যবহার করেন। তবে পুরুষের মধ্যে সুপারির ব্যবহার বেশী। উল্লেখ্য সুপারির কারণে মুখে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা থাকে বেশি।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। গাছের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার ৪শতটি। গাছ প্রতি গড়ে ৪শ ৪০টি সুপারির ফলন হয়েছে। প্রায় গাছে ৩ থেকে ৪ কাধি সুপারির ফলন ধরে। কোন কোন গাছে সর্বনি¤œ ৫০ থেকে ১৫০ আবার কোন কোন গাছে ৬ থেকে ৭শ সুপারি ফলন হয়। লবণাক্ত এ উপজেলার ভূমির অবস্থান উচু ও বিলান এবং নিচু ও বিলান জমির পরিমাণ বেশী।
উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মধ্যে গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়–লী সুপারি গাছের পরিমাণ বেশী। চাঁদখালী ও পৌরসভার আংশিক এলাকায় সুপারি গাছ রয়েছে। বাকী ইউনিয়ন গুলোতে গাছ নেই বললেই চলে। সুপারির ভরা মৌসুমে হাট-বাজারে প্রচুর পরিমাণ সুপারি বিক্রি হচ্ছে।
বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনের হাটে প্রচুর পরিমাণ সুপারি সরবরাহ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে পাইকারী সুপারি ক্রয় করে এলাকার বাইরে মোকাম গুলোতে বিক্রি করছে। তাছাড়া স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীরা সুপারি ক্রয় করে গুদামজাত করছে। যা পরে শুকিয়ে বা পানিতে মজিয়ে পরবর্তীতে বিক্রি করা হবে।
গদাইপুর গ্রামের সুপারি বাগান মালিক শফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর সুপারির ফলন খুব ভাল হয়েছে এবং বাজার মূল্য ভাল, এতে তিনি খুশি। নতুন করে আরেকটি সুপারি বাগান গড়ে তুলবেন বলে জানান।
স্থানীয় সুপারি ব্যবসায়ী মতিউর রহমান, মোবারক ঢালী, সিরাজুল ইসলাম সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে প্রচুর পরিমাণ সুপারি উঠছে। শুরু থেকে সুপারির দাম বেশী থাকলেও এখন ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে কুড়ি বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা স্থানীয় হাট-বাজার থেকে পাইকারী সুপারি থেকে বড়দল, সোলাদানা, শান্তাসহ পাশ্ববর্তী হাট-বাজারের আড়ৎ গুলোতে সুপারি বিক্রয় করে। সুপারির হিসাব অঞ্চল হিসাবে ভিন্ন। এ এলাকায় এক কুড়ি (৫৫গোন্ডা) অর্থাৎ ২২০টি সুপারি। মৌসুমের শুরুতে সুপারির দাম বেশী থাকলে বর্তমানে দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় অনেকেই সুপারি ক্রয় করে মজুদ করতে শুরু করেছে। যা পরবর্তীতে উচ্চ মূল্যে বিক্রয় করবেন বলে মজুদকারীরা জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, সুপারি এ অঞ্চলের একটি অর্থকারী গুরুত্বপূর্ণ ফসল। তাছাড়া এ এলাকার সুপারির মানও ভালো। তবে লম্বা সুপারি গাছ গুলো মরে যাওয়ায় অথবা কেঁটে ফেলায় নতুন করে সুপারির বাগান তেমন একটা গড়ে উঠছে না। তাই কৃষি অফিস থেকে নতুন করে সুপারি বাগান তৈরীর জন্য বাগান মালিক ও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

পাইকগাছার সুপারির হাট জমে উঠেছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড়

“সকলের জন্য উন্নত স্যানিটেশন,নিশ্চিত হোক সুস্থ জীবন, সকলে হাত পরিচ্ছন্ন থাক” এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে পঞ্চগড়ে জাতীয় স্যানিটেশন মাস অক্টোবর ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে জেলা প্রশাসন ও জনসাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পঞ্চগড় সরকারী অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।
এতে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায়, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান আমিরুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাঈমুল এহশান, পঞ্চগড় পৌর সভার মেয়র মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, স্থানীয় এনজিও পরস্পরের নির্বাহী পরিচালক আকতারুন নাহার সাকী,পঞ্চগড় আরডিআরএস প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর অরুন চন্দ্র কির্তনিয়া,আরডিআরএসের সুর্বনা শাহা সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেয়। র‌্যালী শেষে পঞ্চগড় সরকারী অডিটোরিয়াম হলরুমে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

পঞ্চগড়ে জাতীয় স্যানিটেশন বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

themesbazartvsite-01713478536