পরিবারের দাবী হত্যা সোনাইমুড়ীতে মা মেয়ের লাশ উদ্ধার

পরিবারের দাবী হত্যা সোনাইমুড়ীতে মা মেয়ের লাশ উদ্ধার

সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) থেকে এম.এবি.ছিদ্দিকঃ সোনাইমুড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী ২ সন্তানের জননী বকুল আক্তারসহ শিশু কন্যা ফাতেমা’র লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। গত ২১ মার্চ শনিবার দুপুরে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স (বজরা হাসপাতাল) থেকে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে। নিহত বকুল আক্তার উপজেলার আলোকপাড়া গ্রামের মৃত আবদুর রবের মেয়ে ও ফাতেমা আক্তার আবদুর রবের নাতনী হয়।
স্থানীয় ও পারিবারিকসূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী কুমিল­া জেলার মনোহরগঞ্জ থানাধীন নাড়ারপাড় গ্রামের শাহজাহানের ছেলে আবদুর রহীমের সাথে ২০১২ সালে বকুল আক্তারের বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকে শ্বশুর শাহজাহান, শাশুড়ী আয়েশা, ননদ সাজেদা আক্তার বিভিন্ন সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে ও যৌতুকের দাবীতে বকুল আক্তারের উপর অমানুষিক নির্যাতন অত্যাচার করত। শ্বশুর বাড়ীর যৌতুকের দাবীর মুখে বকুল আক্তারের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে বকুল আক্তারের ভাইয়েরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দপে ৩০ লক্ষ টাকা যৌতুক প্রদান করে। শ্বশুর বাড়ী থেকে যৌতুকের টাকা নিয়ে আবদুর রহীম বাহরাইনে যায়। ২১ মার্চ শনিবার সকালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শ্বশুর, শাশুড়ী, ননদ বকুল আক্তার ও তার দুই কন্যা রুপা আক্তার (৭), ফাতেমা আক্তার (৩) দেরকে নির্মম নির্যাতন করে। নির্যাতনের ফলে বকুল আক্তার, ফাতেমা আক্তার, রুপা আক্তারগণ অজ্ঞান হয়ে পড়লে শ্বশুরালয়ের লোকজন তাদের মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে অভিমানে বিষ সেবন করেছে মর্মে বকুল আক্তারের শ্বশুরালয়ের লোকজন বলাবলি করতে থাকে। স্থানীয়সূত্রে আরো জানা যায়, শাহজাহানের পরিবার এক সময় দিনমজুরি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত। ছেলের শ্বশুর বাড়ী থেকে টাকা এনে সে টাকা দিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে ছেলের অর্জিত টাকা চড়া সুদের ব্যবসা করে রাতারাতি অনেক টাকার মালিক হয়। ২১ মার্চ শনিবার বকুল আক্তারকে নির্যাতনকালে প্রতিবেশী লোকজন বকুল আক্তার ও তার শিশু কন্যাদের আÍচিৎকার ও নির্যাতনের টের পেলেও বাড়ীর প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় কেউ ঘরে ঢুকে উদ্ধার করতে পারেনি। ঘটনার পর থেকে বকুল আক্তারের শ্বশুরালয়ের লোকজন পলাতক রয়েছে।
হাসপাতালসূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে মনোহরগঞ্জ থানা এলাকার বকুল আক্তার নামে এক গৃহবধূ ও তার ২ কন্যা রুপা আক্তার (৭), ফাতেমা আক্তার (৩) কে হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গৃহবধূ বকুল আক্তার ও শিশু কন্যা ফাতেমা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হয়, হাসপাতালে আসার পথেই তারা মৃত্যু বরণ করে। রুপা আক্তারের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাহাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। রুপা আক্তার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়। রবিবার ময়না তদন্ত শেষে নিহত বকুল আক্তারের মাতা ছেমনা খাতুনের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাটি হত্যা নাকি বিষপানে আÍহত্যা জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ জানান, ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536