বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি: দেড় বছরে নির্বাচন নেই শিক্ষা ক্যাডারে ক্ষোভ

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি: দেড় বছরে নির্বাচন নেই শিক্ষা ক্যাডারে ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক:প্রায় দুই বছর ধরে অচল করে রাখা হয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। বিসিএস ক্যাডারগুলোর মধ্যে বেশি সংখ্যক সদস্যের এ ক্যাডারের সংগঠনের পদ-পদবি ব্যবহার করে নিজের স্বার্থসিদ্ধির অভিযোগ উঠেছে এক নেতার বিরুদ্ধে।

দেড় বছর আগে তার পদটি অবৈধ হয়ে গেছে। তবু তিনি অহরহ পদটি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছেন। কমিটির মেয়াদ পার হওয়ার পরও নানা কৌশলে নির্বাচন বন্ধ করে সমিতি অচল করে রাখার অভিযোগ ওই নেতার বিরুদ্ধেই। তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক।

এ ব্যাপারে সর্বশেষ কমিটির সভাপতি ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আইকে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন না হওয়াটা খুবই দুঃখজনক। কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সমিতির কিছু নেতা এই নির্বাচন আটকে রেখেছেন। যা গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতার পরিপন্থী। এতে সমিতির প্রতিনিধিত্ব করা যাচ্ছে না। আমরা ব্যাপারটি শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছি। তিনি বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন। আমরাও অপেক্ষায় আছি।

তবে বর্তমানে প্রেক্ষাপট উল্টো বলে জানা গেছে। ওইসব নেতার বিরুদ্ধে সাধারণ সদস্যদের নানাভাবে নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগ আছে। পদ-পদবি ব্যবহার করে গত এক দশকের বেশি দিন লোভনীয় পদ দখলে রেখেছেন তারা। এর সুবাদে সাধারণ সদস্যদের হয়রানির সুযোগ তাদের হাতে রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও সদস্যরা প্রায়ই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এত দীর্ঘ সময় নির্বাচনবিহীন অবস্থায় থাকেনি বিসিএস শিক্ষা সমিতি। সমিতির একজন সদ্য সাবেক মহাসচিব নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতা নিজের হাতে রাখতে টালবাহানা করছেন। শিক্ষা ক্যাডারে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার সদস্য আছে। সমিতির সর্বশেষ কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১ জুন। দ্বিবার্ষিক এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৮ সালের ১৪ জুন। এরপর কোনো নির্বাচন ছাড়াই দিন পার করছে সমিতি।

ঢাকা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক সেমিনার সচিব ড. কুদ্দুস সিকদার বলেন, এত দীর্ঘ সময় নির্বাচন না হওয়া বিসিএস শিক্ষা সমিতির ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এতে সমিতির প্রতি সাধারণ সদস্যদের আস্থা নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষা ক্যাডারকেও চরম সঙ্কটের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে।

স্বাধীনতা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সংসদের সদস্য সচিব সৈয়দ জাফর আলী বলেন, সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচন দেয়ার কোনো বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে প্রায় সবাই একমত হলেও একটি বিশেষ গোষ্ঠী তা কোনোভাবেই হতে দিচ্ছে না। এতে শিক্ষা ক্যাডার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার সমাধান জরুরি।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536