শেরপুরের শ্রীবরদীর সীমান্ত দিয়ে গরুসহ মাদক চোরাচালান চলছেই

শেরপুরের শ্রীবরদীর সীমান্ত দিয়ে গরুসহ মাদক চোরাচালান চলছেই

অনলাইন ডেস্ক:শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাকারবার করতে গিয়ে বিএসফের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন উকিল মিয়া
(৩০) ও খোকন মিয়া (২৫)। আহত হয়েছেন আদিবাসী যুবক বিশ্বাস ম্রং (৩৫)। চলতি বছর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের
পোড়াকাশিয়ার ১০৯১, ১০৯২ ও ১০৯৩ সীমানায় কুমারগাতি ও পানবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত উকিল মিয়া
পার্শ্ববর্তী মেঘাদল গ্রামের বঙ্গ সুরুজ আলীর ছেলে ও খোকন মিয়া মাটিফাটা গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে। আহত যুবক
কুমারগাতি গ্রামের বীরেন দালবৎ এর ছেলে। এসব ঘটনার পরও সীমান্ত এলাকায় প্রতি রাতে চলছে গরুসহ মাদকদ্রব্যের
চোরাচালান।এলাকাবাসী জানান, শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ও সিংগাবরনা ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষা বাবেলাকোনা,
চান্দাপাড়া, দিঘলাকোনা, কুমারগাতি, পানবাড়ি, হারিয়াকোনা, মালাকোচা, বালিজুরি, খারামোরা ও কুমারগাতিসহ ১৫
থেকে ১৬টি গ্রাম ঘেঁষে রয়েছে ভারতের সীমানা পিলার। এসব সীমানায় রয়েছে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার নিচে
গোলাকৃতির বড় কালভার্টের ফাঁক। আবার যেখানে কাঁটাতারের বেড়া শেষ সেখানে রয়েছে খোলা। কোথাও রয়েছে আবার
ব্রিজ। এসব ব্রিজের নিচে ফাঁকা অংশ আর কালভার্ট এর নিচ দিয়ে যাতায়াত করে চোরাকারবারিরা। এসব
চোরাকারবারিরা ভারত থেকে আনছে গরুসহ মাদকদ্রব্য। পরে গরু প্রকাশ্যে বেচা কেনা হচ্ছে স্থানীয় বাজারে। মাদক দ্রব্য
বিক্রি হচ্ছে গোপনে।
এর মধ্যে গরু চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় একাধিক চক্র। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে পারে না বলে জানান
স্থানীয়রা। তাছাড়া এলাকাটি আদিবাসী অধ্যুষিত। তারা আবার সংখ্যালঘুও। এই জন্য তারা প্রতিবাদ করতেও সাহস
পাননা। এতে নির্বিঘ্নে চলছে চোরাকারবার। একটি সূত্র জানান, চোরাকারবারিরা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে টাকা পাঠায়।
ভারত থেকে চোরাই পথে নিয়ে আসে গরুসহ মাদকদ্রব্য। এসব কাজে রয়েছে জীবনের ঝুঁকি। তবুও থেমে নেই
চোরাকারবারিরা।
চলতি বছর ১৭ নভেম্বর চোলাচালান নিয়ে বিএসএফের গুলিতে ১০৯১ ও ১০৯২ পিলারের পাশে মেঘাদল গ্রামের উকিল
মিয়া ও মাটিফাটা গ্রামের খোকন মিয়া নিহত হন। এরও আগে ১০৯৩ পিলারে পাশে বিএসএফের গুলিতে আহত হন
কুমারগাতি গ্রামের বিশ্বাস ব্রং। এছাড়াও বিজিবি ও চোরাকারবারিদের মধ্যে ঘটেছে সংঘর্ষের ঘটনা।গত শনিবার
চোরাকারবার বন্ধে কর্ণঝোড়া বিজিবির ক্যাম্প ইনচার্জ জুয়েলে সঙ্গে সিংগাবরনা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হাবিবুর
রহমান হাবিব কথা বলতে যান। এসময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডর ঘটনা ঘটে। পর তাকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া
হয়। এই ঘটনার পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রেজ্জাক মজনু ও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার মাধ্যমে বিষয়টি সমঝোতা
হয়। এ ব্যাপারে হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধের সুপারিশ করতে গেলে বিজিবি তাকে আটক
করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তবে কর্ণঝোড়া বিজিবি ক্যাম্প ইনচার্জ জুয়েল বলেন, তাকে আটক করা হয়নি। তাকে ডেকে
ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, আমরা চোরাকারবারিদের আটক করতে অভিযান চালিয়েছি।
এদিকে, চোরকারবারের সহযোগিতা করতে আফছার আলী নামে এক ব্যক্তি বিজিবির লাইন হিসেবে কাজ করছে বলে
অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিংগাবরনা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রেজ্জাক মজনু বলেন,

ভারত থেকে চোরাই পথে গরুসহ মাদকদ্রব্য আসছে। এলাকার কিছু লোক চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত। মাসিক সমন্বয়
সভায় চোরাচালান রোধে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
এই বিষয়ে তাওয়াকোচা বিজিবি ক্যাম্প ইনচার্জ মো. লুৎফর রহামানের নিকট জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে
চাননি। তবে তিনি জানান, আফছার তাদের সোর্স। সীমান্তের খবর জানান তিনি।শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
মোহাম্মদ রহুল আমিন তালুকদার বলেন, চোরাচালান বন্ধে বিশেষ অভিযান রয়েছে। চোরাচালান বন্ধ হবে। নিরাপদ
থাকবে সীমান্ত এলাকা।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আকলিমা রশীদ ঢালীপিংকী , কসবা প্রতিনিধি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের দুরুইল গ্রামে ফেসবুকে লেখা আর রাস্তাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের পরিকল্পিত হামলায় জিলানীর বাড়িঘর দোকানপাট ভাংঙ্গচোর-আহত ৪,ধানায় মামলা গ্রেফতার-৪ সংবাদ পাওয়া যায়।
ঘটনা প্রকাশ,ফেসবুকে লেখা আর রাস্তার তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের দুরুইল গ্রামে দীর্ঘদিন থেকে দুই পক্ষের মাঝে বিরোধ চলমান রয়েছে বলে গ্রামবাসী জানান। এর জের ধরে একই গ্রামের মোবারক হোসেন মানিকের নেতৃতে সোলেমান মিয়ার পুত্র শাহীন আল মামুন লাঠিয়াল বাহিনীর গ্রামে চরম উওেজনা বিরাজ করছে বলে গ্রামের উওর পাড়ার লোকজন তাও জানান।
মোবারক হোসেন মানিকের জনবল,লাঠি বল,অর্থবলে গ্রামের সাধারণ মানুষকে মানুষ বলে মনে না করে যখন যা মনে চায় তাই করেন বলে ক্ষতিগ্রস্থরা তাও জানান। তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না বলেও জানান। মোবারক হোসেন মানিক এর নেতৃত্বে একদল যুবক ফেসবুকে মিথ্যা কাল্পনিক কথা লিখে গ্রামে অপ প্রচারসহ জমি জমা দখল করার বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে।
গত ৮ জুলাই দিনের প্রায় সাড়ে তিনটায় ফেসবুকে লেখা আর রাস্তার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোবারক হোসেন মানিকের হুকুমে শাহীন আলম মামুনসহ ৩০/৪০জন দাঙ্গাবাজ হাতে রাম দা,রড,হকস্টীক লাঠি সোটা নিয়ে একই গ্রামের উওর পাড়ার মৃত মিরণ মিয়ার পুত্র জিলানীর বাড়ি ঘর দোকান পাটে ফিম্মিটাইলে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধনসহ লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে।
তাদের ফিম্মিটাইলের হামলায় মো: চুনি মিয়া (৭৫),মোছাম্মদ সুলতানা বেগম(৩৫), জুলেখা বেগম(২৪), মো:বাবুল মিয়া(৩২)সহ ৪জন গুরুত্বর অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে মামলা বাদী মো: জিলানী সাংবাদিকদেরকে জানান। এর মধ্যে মো: চুনি মিয়া ও মোছাম্মদ সুলতানা বেগম কুমিল্লা মেডিক্যাল হাসপাতালে আস্কজনক অবস্থায় আছেন।
এই ঘটনায় শাহীন আলম মামুন (৩০), উজ্জল মিয়া (৪০),রমজান (২৫) ,রাসেল(২৫)সহ ১৫জনকে আসামী করে কসবা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। কসবা থানা মামলা নং-১৯। ঘটনার সংবাদ পেয়ে কসবা থানা পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা অব্যাহত চালিয়ে ঐদিনই দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রসহ শাহীন আলম মামুন, উজ্জল মিয়া,রমজান ও রাসেলকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃতদেরকে ৯ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে প্রেরণ করেন। মামলার তদন্ত র্কমর্কতা কসবা থানার এস আই মো:আনোয়ার হোসেন গ্রেফতারের সততা স্বীকার করেন এবং অন্য আসামীদেরকে গ্রেফতারের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন বলে সাংবাদিকদেরকে জানান। ক্ষতিগ্রস্থরা ঘটনার অন্তরালে মূল নায়ক ও হুকুমদাতা মোবারক হোসেন মানিকের নির্দেশে লাঠিয়াল শাহীন আলম মামুন,উজ্জল,ফরহাদ,জামাল,সুমন,মশিউর রহমান রাঙ্গা,সমুন মিয়া গংদের কবল থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে আইনমন্ত্রীর কাছে ন্যায়বিচার দাবী করছেন।
অপর দিকে দায়েরকৃত মামলা তুলে না নিলে মামলার বাদী ও তার পরিবারের সদস্যসহ স্বাক্ষীদেরকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে ঘটনার অন্তরালে মূল নায়ক হুকুমদাতা মোবারক হোসেন মানিক সহ তার লোকজন বলে মামলার বাদী জিলানী সাংবাদিকদেরকে জানান।
দিন দুপুরে লাঠিয়ালবাহিনীর দল নেতা শাহীন আলম মামুনসহ তার সঙ্গবদ্ধ দল রাম দা,লৌহার রড,মহকস্টিক নিয়ে প্রকাশ্য হামলাসহ বাড়ি ঘর দোকানপাটে তাগুব চালানোর ঘটনাটি নিন্দাজ্ঞাপন করে গ্রামের সচেতনমহল ন্যায় বিচার দাবী করেছেন আইনমন্ত্রীর কাছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দোকানপাট ভাংঙ্গচোর আহত ৪ গ্রেফতার ৪

themesbazartvsite-01713478536