যশোর মনিরামপুরে ইউপি সচিবের দূর্নীতি ‘ ৯ সদস্যের লিখিত অভিযোগ

যশোর মনিরামপুরে ইউপি সচিবের দূর্নীতি ‘ ৯ সদস্যের লিখিত অভিযোগ

নিলয় ধর,(যশোর) প্রতিনিধি :যশোর মনিরামপুরে খেদাপাড়ায় এক ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ট্যাক্সের টাকা আত্মসাতসহ নানাবিধ দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি পাওয়া গেছে খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মৃনাল কান্তী সাহার বিরুদ্ধে।

তার বিরুদ্ধে ৯ জন ইউপি সদস্যের ভাতা, আদায়কৃত ট্যাক্সের টাকা আত্মসাত এবং ৫১টি গভীর নলকুপ স্থাপনের জন্য প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা আদায়সহ বিভিন্ন দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। আর এই কারনে পরিষদের ৯জন ইউপি সদস্য সম্প্রতি জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিধ্যে সচিবের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে ৯জন ইউপি সদস্য জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন। খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ অফিস সূত্রে জানাযায়, পরিষদের প্রতি ইউপি সদস্যের জন্য মাসিক ভাতা বরাদ্দ রয়েছে ৮ হাজার টাকা।

এর মধ্যে সরকারী ৩ হাজার ৬ শত  টাকা এবং পরিষদ থেকে ৪ হাজার ৪ শত  টাকা প্রদান করা হয়েছে। সাধন কুমার বিশ্বাস, তায়জুল ইসলাম, রাজু আহম্মেদ, একরামুল হোসেন, রেহেনা খাতুনসহ ৯জন ইউপি সদস্য জানিয়েছে, পরিষদের ৩ মাসের ভাতা উত্তোলনের জন্য তারা ইউপি সচিব মৃনাল কান্তী সাহার কাছে চেক প্রদান করেন। কিন্তু অভিযোগ করা হয়েছে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করার পর মৃনাল কান্তি সাহা প্রতি ইউপি সদস্যকে ১৩ হাজার ৫ শত  টাকার পরীবর্তে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন।

এই বাকী টাকা সচিব আত্মসাত করেছেন বলে তাদের অভিযোগ। এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রোকৌশল অধিদপ্তর থেকে ৫১ টি গভীর নলকুপ স্থাপনের কথা বলে সচিব এলাকার প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা আদায় করেন। মাহমুদকাটি গ্রামের আবুল হোসেন জানিয়েছেন, নলকুপ স্থাপন করতে সরকারি ফিস বাবদ ৭ হাজার ১ শত টাকা নির্ধারিত থাকলেও সচিবকে দিতে হয়েছে অতিরিক্ত আরো ৩ হাজার টাকা।

শুধু এই অভিযোগ আবুল হোসেনের নয়। একই অভিযোগ করেন কৃঞ্চবাটি গ্রামের শ্রীকান্ত বিশ্বাস, হেলাঞ্চী গ্রামের লুৎফর রহমান, হেরমত আলী, রাসেল আহম্মেদ সহ অনেকেই। এ ছাড়াও সচিবের বিরুদ্ধে এলাকার হাট-বাজার থেকে আদায়কৃত ট্যাক্সের টাকা আত্মসাতসহ নানাবিধ দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে পরিষদের নয়জন ইউপি সদস্য সম্প্রতি যশোরের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগকারী ইউপি সদস্যরা হলো রাজু আহম্মেদ, মাহাবুবুর রহমান, একরামুল হোসেন, সাধন কুমার বিশ্বাস, তায়জেল ইসলাম মিলন, মুনসুর আলী , রেহেনা খাতুন , শারমিন সুলতানা এবং শাহানার খাতুন। ইউপি চেয়ারম্যান এসএম আবদুল হক জানান, ইউপি সদস্যদের অভিযোগের অধিকাংশ সত্য।

তবে সচিব মৃনাল কান্তী সাহা তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সমুহ ভিত্তিহীন দাবি করে জানিয়েছেন, সামান্য কিছু বিষয়াদী নিয়ে ২/১জন ইউপি সদস্যের সাথে ভূলবোঝাবুঝির কারনে তারা এ অভিযোগটি করেছেন।

এই দিকে অভিযোগের প্রেক্ষিত জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেন।

নির্বাহী অফিসার ২৩ ডিসেম্বর তদন্তের তারিখ নির্ধারন করে ইউপি সদস্যদের নামে চিঠি ইস্যু করেন। কিন্তু ২২ ডিসেম্বর রাতে অনিবার্য কারন উল্লেখ করে তদন্তকাজ স্থগীত করা হয়। তবে স্থগীতের সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী জানান, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তদন্তকাজ সম্পন্ন করা হবে।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536