শিল্প, বানিজ্য ও বন্দর নগরী নওয়াপাড়ায় (ওয়ান স্যুটার গান) উদ্ধার

শিল্প, বানিজ্য ও বন্দর নগরী নওয়াপাড়ায় (ওয়ান স্যুটার গান) উদ্ধার

নিলয় ধর, যশোর প্রতিনিধি :যশোর নওয়াপাড়ায় শিল্প, বানিজ্য ও বন্দর নগরী নওয়াপাড়ায় পরিত্যাক্ত অবস্থায় দেশীয় তৈরী ১টি অস্ত্র (ওয়ান স্যুটার গান) উদ্ধার করা হয়েছে।

মরহুম ডাঃ আকরাম আলী মোল্যার বাড়ি সংলগ্ন ফাঁকা মাঠ থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভয়নগর থানার ওসি তাজুল ইসলামের নির্দেশে
এসআই মহসিন ও (এএসআই) তরিকুল ইসলাম শুক্রবার দুপুরে খবর পেয়ে মরহুম ডাঃ আকরাম আলী মোল্যার বাড়ি সংলগ্ন ফাঁকা মাঠ থেকে

পরিত্যাক্ত অবস্থায় দেশীয় তৈরী ১টি (ওয়ান স্যুটার গান ) অস্ত্র উদ্ধার করেছেন।

তবে এই ব্যাপারে কাউকে আটক করা সম্ভব হয় নি। অভয়নগর থানায় এই ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

বুলবুল আহমেদ নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের মালগুদাম এলাকা থেকে সিএনজি সিলিন্ডার ভর্তি ট্রাক জব্দ করেছেন আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সান্তাহার পৌর শহরের উম্মুক্ত জায়গায় ঝুকিঁপূর্ন ভাবে পাইপের মাধ্যমে গ্যাস কেনাবেচা হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ বিন রশিদ সোমবার ভোরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধ ভাবে গ্যাস বিক্রির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
অবৈধ ভাবে গ্যাস বিক্রি বন্ধের জন্য গত ৫ সেপ্টেম্বর আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সান্তাহার মালগুদাম এলাকার ব্যবসায়ি ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠন। অভিযোগে জানা যায়, সান্তাহার পৌর এলাকার মিজানুর রহমান দীর্ঘ দিন ধরে গভীর রাতে ট্রাকে সিলিন্ডার রেখে বিভিন্ন যানবাহনে অবৈধ ভাবে গ্যাস বিক্রি করে আসছেন। বগুড়ার সিএনজি ষ্টেশন থেকে ট্রাকে করে গ্যাস সিলিন্ডার আনা হয়। একটি ট্রাকে বড় আকারের ২০ থেকে ৩০ টি সিলিন্ডার থাকে। শহর মানুষ শুন্য হলে গভীর রাতে ট্রাকের সিলিন্ডার থেকে পাইপের মাধ্যমে সিএনজি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য যানবাহনে গ্যাস বিক্রি হয়। দুরত্ব ও খরচ এড়াতে যানবাহনের মালিকরা ট্রাক থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে থাকেন। সান্তাহার শহরের ব্যবসায়ি ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের অভিযোগের ভিত্তিতে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ বিন রশিদ সোমবার ভোরে অভিযান পরিচালনা করে ১২টি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার সহ একটি ট্রাক জব্দ করেন। এ ব্যাপারে আদমদীঘি ইউএনও আবদুল্লাহ বিন রশিদ জানান, ট্রাকসহ সিলিন্ডার থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।

বগুড়ার সান্তাহারে গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি ট্রাক জব্দ করলেন ইউএনও

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ট্রলির সাথে মোটর সাইকেলের মুখোমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে মোটর সাইকেলের চালক নিহত হয়েছে।  তার নাম সুমন মোহাম্মদ তুষার (৩৫)। তিনি দিনাজপুরের পার্বতীপুরের গুলপাড়ার জুলফিকার আলীর পুত্র। পার্বতীপুর স্টেশনে বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী লোকোমাস্টার (সহকারী ট্রেন চালক) হিসেবে কর্মরত।
পুলিশ জানায়, ১৬ আগস্ট  রোববার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মোটর সাইকেল যোগে সৈয়দপুর থেকে পার্বতীপুরে যাওয়ার সময় সৈয়দপুর উপজেলার সীমানা এলাকার চৌমুহনী বাজারে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রলির সাথে মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় সুমন।
এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা বোন ও ভাগিনী গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করায়।৷

সৈয়দপুরে ট্রলি-মোটরসাইকেল মুখোমুখী সংঘর্ষে সহকারী লোকো মাস্টার সুমন নিহত

 সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আতাউর রহমানের নামে থাকা বয়স্ক ভাতার কার্ডটি বাতিল করেছে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর। ওই কার্ডটি একজন প্রকৃত দুস্থের নামে করে দেওয়ার পাশাপাশি গত এক বছরে ওই কার্ডের বিপরীতে তোলা ভাতার টাকাও ইউপি সদস্যের থেকে ফেরত নিয়ে দুস্থকে প্রদান করা হয়েছে।
ইউপি সদস্য মোঃ আতাউর রহমান অনিয়ম করে নিজের নামে ২০১৯-২০২০ ইং অর্থবছরের বয়স্ক ভাতা কার্ড ইস্যু করে এক বছর ধরে ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন। এ নিয়ে সাংবাদিক শাহজাহান আলী মনন ও জাকির হোসেন বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল সহ দৈনিক পত্রিকায় “সৈয়দপুরে রানিং ইউপি মেম্বার পাচ্ছেন বয়স্কভাতা” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে। এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সত্যতা পেয়ে সৈয়দপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসের দূর্নীতিবাজ ইউনিয়ন সমাজকর্মী মোঃ শাহজাহান কে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে। পরে
গত ১৬ আগষ্ট বোববার বিকেলে উপজেলা পরিষদে কামারপুকুর ইউপির বাসিন্দা দিনমজুর মোঃ আবদুর রহমানের হাতে ওই বয়স্ক ভাতার কার্ড তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নাসিম আহমেদ। এ সময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হাওয়া খাতুন উপস্থিত ছিলেন।
সমাজসেবা কর্মকর্তা হাওয়া খাতুন বলেন, তদন্ত করে ওই ইউপি সদস্যের নামে বরাদ্দ করা বয়স্ক ভাতার কার্ড ইস্যু ও টাকা উত্তোলনের সত্যতা মিলেছে। তারপর পরই সেই কার্ড বাতিল করে উত্তোলিত টাকাসহ একজন প্রকৃত দুস্থের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন সমাজকর্মী ও সেই ইউপি সদস্যের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নাসিম আহমেদ বলেন, বয়স্ক ভাতার কার্ড দুস্থ বয়স্করা পাবেন এটা স্বাভাবিক। কিন্তু ইউনিয়ন মেম্বার পাচ্ছেন তা জানার পর পরই সাথে সাথে তা বাতিল করে দুস্থদের দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে সৈয়দপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসের অপর কর্মচারী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোঃ টুটুলের সাথে যোগ সাজশে পৌর মহিলা কাউন্সিলর কনিকা রানী কর্তৃক মৃত ব্যাক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ভাতা উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশ করে উক্ত দুই সাংবাদিক। এ ঘটনায় পৌর পরিষদের এক জরুরি সভায় তদন্ত কমিটি গঠন করেন পৌর মেয়র অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন সরকার। কিন্তু আজও সে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ বা অনিয়মের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ফলোআপঃ সৈয়দপুরের সেই ইউপি সদস্যের নামে বয়স্ক ভাতার কার্ড বাতিল করে দুস্থকে প্রদান

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেয়া ভিজিএফ’র চাল আত্মসাত ও স্লিপ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা ধামাচাপা দিতে গোপনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইউপি চেয়ারম্যান। ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছার আগেই তদন্তের ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করে অভিযোগ মিথ্যে বলে বক্তব্য দিয়ে বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের অপচেষ্টা করা হয়েছে। এমন অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান ও  তদন্ত কমিটিসহ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এটাকে তুষ দিয়ে আগুন ঢাকার অপচেষ্টা বলে গুন্জন উঠেছে সচেতন মহলে। সে সাথে যথাসময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে গড়িমসির অভিযোগও তুলেছে কেউ কেউ। কারন তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে তদন্ত কমিটির প্রধান ও সদস্যরাসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সংবাদকর্মীসহ কোন পক্ষের কাছেই মুখ খুলতে অস্বীকৃতি জানালেও চেয়ারম্যান কিভাবে সে সম্পর্কে আগাম মতামত ব্যক্ত করেছেন সংবাদ সম্মেলনে। তাই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে উপজেলা জুড়ে।
জানা যায়, গত ২৯ জুলাই বুধবার সকালে উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নে ভিজিএফ’র চাল তুলতে গিয়ে চাল না পেয়ে বিক্ষোভ করে প্রায় সহস্রাধিক স্লিপধারী হতদরিদ্র মানুষ। এসময় তাদের চাল নেই বলে চলে যেতে বলে চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল হক চৌধুরী ও ইউপি সচিব মোঃ রহিদুল ইসলাম । তাদের মধ্যে অনেকের স্লিপ তুলে নিয়ে পরে চাল বা টাকা দেয়া হবে বলে পুড়িয়ে ফেলা হয় স্লিপ।  এতে উপস্থিত জনগন উত্তেজিত হয়ে উঠলে পরিস্থিতি সামাল দিতে খবর পেয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উপস্থিত হন। এসময় চাল না পেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষারত মানুষেরা অভিযোগ করেন যে চেয়ারম্যান ও সচিব চাল বিতরণে নিয়োজিত ট্যাগ অফিসার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমানের সমঝোতায় চাল বিক্রি করে দিয়েছেন। তাই স্লিপ প্রাপ্তদের চাল দিতে পারছেন না। তাই তারা গরীব মানুষগুলোর কাছ থেকে স্লিপ নিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছেন।
এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আবু হাসনাত সরকারের মধ্যস্থতায় চেয়ারম্যান ২৫০ জন স্লিপধারী চাল পায়নি স্বীকার করে পরের দিন চাল দেয়ার আস্বাস দেন। সে অনুযায়ী পরেরদিন ২৫০ জন কে বাজার থেকে ক্রয় করা চাল দেয়া হয়। তারপরও প্রায় শতাধিক স্লিপধারী আজও চাল পায়নি।
এঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চাল আত্মসাৎ ও স্লিপ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। এতে প্রধান করা হয় উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রাসেদুল হক। সদস্য ছিলেন উপজেলা বিআরডিবি অফিসার আল মিজানুর রহমান ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান। তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয় কমিটিকে।
এ তদন্ত কমিটির প্রধান ডাঃ রাসেদুল হক জানান, গত ৫ আগস্ট তারা তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তদন্ত সম্পর্কে কোন তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যথাযথভাবে তদন্ত করেছি এবং প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করেছি। এ ব্যাপারে কোন কিছুই বলার ইখতিয়ার আমাদের নাই। চেয়ারময়ান সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যপারে কোন মন্তব্য করে থাকলে তা অনুমান নির্ভর। কেননা এ সম্পর্কে কেউই কিছু জানার কথা নয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসিম আহমেদ গত ১০ জুলাই জানান, বৃহস্পতিবারই (৬ জুলাই) সিলগালা প্যাকেট করে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য বিষয়ে তিনিও কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। কেউ তদন্ত রিপোর্ট সম্পর্কে আগাম মন্তব্য করে থাকলে তা তাদের ব্যাপার। তিনি বলেন প্রতিবেদন অনুযায়ী জেলা প্রশাসক পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন।
এদিকে জেলা প্রশাসক গত ১০ জুলাইও প্রতিবেদন পাননি বলে জানা যায়। কিন্তু তার আগেই গত ৯ জুলাই গোপনে গুটি কয়েকজন সংবাদকর্মী নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল হক চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আখতার হোসেন বাদল। এতে চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয় এবং তদন্ত কমিটিও কোন অনিয়ম বা দূর্নীতির তথ্য পায়নি বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন ইউনিয়নের ৭টি এতিমখানা ও মাদরাসায় চাল দেয়ার কারনে সংকট সৃষ্টি হয়। তাই মাত্র ২৫০ জন স্লিপধারী চাল পায়নি প্রথম দিন। পরের দিন চাল কিনে তাদেরকে দেয়া হয়েছে তদন্ত কমিটির উপস্থিতিতেই।প্রশ্ন উঠেছে চেয়ারম্যান কীভাবে নিশ্চিত হয়েছেন যে, তদন্ত কমিটি কোন অনিয়মের তথ্য পায়নি। তবে কি তদন্তের সাথে সম্পৃক্ত কেউ তাকে প্রতিবেদনের তথ্য সরবরাহ করেছে। তাই সে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য চাপ সৃষ্টি করা বা প্রকৃত সত্যকে আড়াল করতে সংবাদ সম্মেলনের নামে ধামাচাপার চেষ্টা করেছেন।
উল্লেখ্য, কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নে মাত্র চারটি এতিমখানা ও মাদরাসা রয়েছে।  অথচ চেয়ারম্যান বলেছেন ৭টিতে তিনি চাল দিয়েছেন। ভিজিএফ’র চাল প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় দেয়ার কোন নিয়ম নাই। এ চাল শুধুমাত্র ব্যক্তি পর্যায়ে বিতরণ করার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এখানেও অনিয়ম ও মিথ্যেচার করা হয়েছে।
তাছাড়া ট্যাগ অফিসার মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেছেন, ঘটনার দিন তিনি ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার আগেই চেয়ারম্যান ও সচিবসহ লোকজন চাল দেয়া শুরু করেন। কিছু লোককে দেয়ার পর দেখা যায় লোকজনের উপস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত চালের মজুদ ছিলনা। এতে স্লিপধারী প্রায় ৪শ’ মানুষ চাল না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে উঠে। অথচ চাল দেয়া হয়েছে মাত্র ২৫০ জনকে। বাকিরা এখনও চাল পায়নি। এই চাল না পাওয়া ৮ জন ব্যাক্তি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে।

সৈয়দপুরে কাশিরাম ইউপি চেয়ারম্যানের ভিজিএফ’র চাল আত্মসাতের ঘটনা ধামাচাপা দিতে গোপনে সংবাদ সম্মেলন

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় রানিং ইউপি মেম্বার পাচ্ছেন বয়স্কভাতা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নে। উপজেলা সমাজসেবা অফিসকে ম্যানেজ করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বয়স্কভাতা কার্ড করেছেন ওই ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার। যার প্রথম কিস্তির টাকা গত ঈদুল আজহার সময় উত্তোলন করেছেন তিনি। একজন সরকারী সুবিধাভোগী ব্যক্তি হয়েও আবারও সরকারী ভাতা আত্মসাৎ করতে এমনটা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সমাজ সেবা অফিসের নানা অনিয়ম নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
জানা যায়, কামারপুকুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ আতাউর রহমান। নিজবাড়ী গ্রামের মৃত জবান উদ্দিনের ছেলে। তিনি চলতি বছরের প্রথম দিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে বয়স্কভাতা প্রদানের জন্য উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক চলমান জরিপের সময় তার নাম অন্তর্ভূক্ত করেন তালিকায়। যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ কেউই সে সময় জানতে পারেননি। সে অনুযায়ী পরবর্তিতে তার নামে কার্ড ইস্যু করে সমাজসেবা অফিস। এক্ষেত্রে বয়স্কভাতা প্রাপ্তির নিয়মাবলী অনুযায়ী তিনি রানিং মেম্বার হিসেবে সরকারী ভাতা তথা সম্মানী প্রাপ্তির সাথে সাথে অন্য কোন সরকারী সুবিধা ভোগী হতে পারবেন না এ বিষয়টিকে তোয়াক্কা করেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। বরং এ বিষয়টিকে পুঁজি করে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের কামারপুকুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন সমাজকর্মী মোঃ শাহজাহান আলী ওই মেম্বার কে কার্ড করে দেয়ার বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। শাহজাহান আলীর সহযোগিতায় বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়।
পরবর্তীতে ভাতার টাকা উত্তোলনের সময় ইউনিয়নের অন্যান্য বয়স্কভাতাভোগীরা বিষয়টি আঁচ করতে পারে এবং সেসময় তা জনসম্মুখে আসে। এক পর্যায়ে তা চাউর হয়ে যায়। সর্বত্র আলোচনা শুরু হয় যে মেম্বার ভাতা প্রাপ্তির যোগ্যতা যাচাই বাছাই করবেন তিনিই কি না সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নিজের নামে বয়স্ক ভাতার কার্ড করেছেন। তাও আবার টাকার বিনিময়ে সমাজ সেবা অফিসকে ম্যানেজ করে। যা একজন দরিদ্র বয়স্ক মানুষ যদি এই কার্ডটা পেতো তাহলে তিনি উপকৃত হতেন। যা বিভিন্ন ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু তিনি তা না করে উল্টো নিজেই জনগণের হক মেরে খেয়েছেন।
সৈয়দপুর উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে এভাবে বিভিন্ন ভাতার কার্ড করে দেয়ার নামে চলছে টাকার খেলা। টাকা দিতে পারলে যোগ্য না হয়েও পাচ্ছেন ভাতা কার্ড। আর টাকা দিতে না পারলে উপযুক্ত হয়েও বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত দরিদ্র ও বয়স্করা। যার সুবিধা নিচ্ছেন দালাল শ্রেনির কতিপয় বহিরাগতসহ ওই অফিসের কয়েকজন কর্মচারী। যারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তৈরী তালিকা অনুযায়ী আগামীতে ভাতা প্রাপ্তির জন্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে অর্থের বিনিময়ে নয়ছয় করে চলেছেন। যা তদন্ত করলে আরও অনেক তথ্য বেড়িয়ে আসবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে কথা হয় ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ আতাউর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, বয়সের দিক থেকে ভাতা প্রাপ্তির যোগ্য হওয়ায় আমার ভাতা কার্ড হয়েছে। যার বই নং ১৪১৪, হিসাব নং ১১৬৮। যাতে জন্ম তারিখ দেখানো হয়েছে ১২ জুন ১৯৫২ খ্রীষ্টাব্দ। রানিং মেম্বার থাকা অবস্থায় আপনি কি অন্য কোন সরকারী সুবিধা বা ভাতা নিতে পারেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেম্বারী আর কয় দিন আছে। আগামী নির্বাচনে আমি মেম্বার হতে পারবো এমন গ্যারান্টিও নাই। তাই কার্ডটা করে নিয়েছি।
কামারপুকুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিম লোকমান বলেন, মেম্বারের বয়স্কভাতা কার্ড করার বিষয়টি আমি জানতাম না। তিনি কিভাবে এমন কাজ করলেন তা আমার চিন্তায় আসছেনা। তিনি বলেন, আমার জানা মতে একজন রানিং মেম্বার কোনভাবেই সরকারী অন্যকোন সুবিধা নিতে পারেন না। তবে এ বিষয়টি দেখার দায়িত্ব উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের। কেননা এখন সরাসরি ওই অফিস কর্তৃক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা তৈরী করা হয় জরিপের মাধ্যমে। এটা সার্বিকভাবে তদারকি করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা। কিন্তু সম্ভবত তারা বিষয়টি যাচাই বাছাই করেন নি বা করে থাকলেও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তারা এ কার্ড করে দিয়েছেন। কেননা একজন ওয়ার্ড মেম্বার কে তারা চিনেন না এমনটা কোনভাবেই হতে পারেনা।
উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কামারপুকুর ইউনিয়ন সমাজকর্মী মোঃ শাহজাহান আলীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ইউপি মেম্বার মোঃ আতাউর রহমানকে আমি চিনি। তিনি মূলতঃ বয়সের ভিত্তিতে ভাতাভোগী হয়েছেন। রানিং মেম্বার কি অন্যকোন সরকারী ভাতা পেতে পারেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না পারেন না। কিন্তু কিভাবে যে আতাউর মেম্বারের নামে কার্ডটি হয়েছে তা আমি বুঝতে পারছিনা। কেননা ওইসময় আমরা খুবই ব্যস্ত ছিলাম। তাই হয়তো দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। টাকার বিনিময়ে কার্ড করে দিয়েছেন এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি কোন সুদত্তর দিতে পারেননি।
উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোছাঃ হাওয়া খাতুন বলেন, এধরণের ব্যক্তির নামে কার্ড হতে পারেনা। এটা দেখার বিষয় আমার অফিসের স্ট্যাফদের। হয়তো ভুলবশত এমনটা হয়েছে। তবে যেহেতু আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। এখন আমরা কার্ডটি বাতিল করবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসিম আহমেদ বলেন, এমন ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই তালিকা থেকে ওই মেম্বারের নাম বাতিল করা হবে। কিভাবে তালিকায় তার নাম উঠলো তা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সৈয়দপুরে ইউপি মেম্বারকে অর্থের বিনিময়ে বয়স্কভাতা কার্ড করে দিয়েছে সমাজসেবা অফিস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বুলবুল আহমেদ নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের মালগুদাম এলাকা থেকে সিএনজি সিলিন্ডার ভর্তি ট্রাক জব্দ করেছেন আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সান্তাহার পৌর শহরের উম্মুক্ত জায়গায় ঝুকিঁপূর্ন ভাবে পাইপের মাধ্যমে গ্যাস কেনাবেচা হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ বিন রশিদ সোমবার ভোরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধ ভাবে গ্যাস বিক্রির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
অবৈধ ভাবে গ্যাস বিক্রি বন্ধের জন্য গত ৫ সেপ্টেম্বর আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সান্তাহার মালগুদাম এলাকার ব্যবসায়ি ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠন। অভিযোগে জানা যায়, সান্তাহার পৌর এলাকার মিজানুর রহমান দীর্ঘ দিন ধরে গভীর রাতে ট্রাকে সিলিন্ডার রেখে বিভিন্ন যানবাহনে অবৈধ ভাবে গ্যাস বিক্রি করে আসছেন। বগুড়ার সিএনজি ষ্টেশন থেকে ট্রাকে করে গ্যাস সিলিন্ডার আনা হয়। একটি ট্রাকে বড় আকারের ২০ থেকে ৩০ টি সিলিন্ডার থাকে। শহর মানুষ শুন্য হলে গভীর রাতে ট্রাকের সিলিন্ডার থেকে পাইপের মাধ্যমে সিএনজি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য যানবাহনে গ্যাস বিক্রি হয়। দুরত্ব ও খরচ এড়াতে যানবাহনের মালিকরা ট্রাক থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে থাকেন। সান্তাহার শহরের ব্যবসায়ি ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের অভিযোগের ভিত্তিতে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ বিন রশিদ সোমবার ভোরে অভিযান পরিচালনা করে ১২টি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার সহ একটি ট্রাক জব্দ করেন। এ ব্যাপারে আদমদীঘি ইউএনও আবদুল্লাহ বিন রশিদ জানান, ট্রাকসহ সিলিন্ডার থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।

বগুড়ার সান্তাহারে গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি ট্রাক জব্দ করলেন ইউএনও

themesbazartvsite-01713478536