নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক:প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভৌত সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। চলতি বছর থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ সরকারি খরচে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে

প্রকল্পগুলো বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বাস্তবায়ন মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ বিভাগকে (আইএমইডি) নির্দেশ দিয়েছেন যাতে পিপিআর সংশোধন করা হয়। কেননা এখনকার নিয়ম অনুযায়ী বড়ো ঠিকাদাররা কাজ পাচ্ছেন। বড়ো ঠিকাদারের পাশাপাশি দেখতে হবে যাতে ছোটো এবং নতুন ঠিকাদারও যেন কাজ পায়, প্রতিযোগিতা বাড়ে। টেন্ডার ডকুমেন্ট এমনভাবে তৈরি করা যাবে না যেন নির্দিষ্ট কোম্পানি বারবার কাজ পায়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী আরো জানান, প্রায়ই আগ্রহ নিয়ে প্রকল্প পাশ করা হয়, দালান-কোঠা নির্মাণ করা হয়। তারপরে আর বাকি কাজ হয় না। জনবল নেই, যন্ত্রবল নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যে আগ্রহ নিয়ে আপনারা প্রকল্পের কাজ শুরু করেন, একই আগ্রহ নিয়ে আপনারা বাকি কাজগুলো করবেন। দেশের নদীগুলোতে অহেতুক সেতু নির্মাণ না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এমনিতেই নদীগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তার ওপর যদি অহেতুক সেতু নির্মাণ করা হয় তাহলে আরো সমস্যা হবে। তাই সেতু নির্মাণে সাবধান হতে হবে। ছোটো নদীতে ক্যাবল পদ্ধতিতে ব্রিজ করতে হবে যাতে বেশি পিলার না লাগে। এখন থেকে নতুন রাস্তা করার চেয়ে বিদ্যমান রাস্তাগুলো চার লেন এবং প্রশস্ত করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো—৩৬৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে যশোর (রাজারহাট)-মনিরামপুর-কেশবপুর-চুকনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, ৭১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ফেনী-সোনাগাজী-মুহুরী প্রকল্প সড়কের ৩৯১.৩৪ মিটার দীর্ঘ মুহুরী সেতু এবং বক্তারমুন্সী-কাজিরহাট-দাগনভূঁঞা সড়কের ৫০.১২ মিটার দীর্ঘ ফাজিলাঘাট সেতু নির্মাণ প্রকল্প।

‘প্রতারণা থেকে বিমা গ্রাহকদের রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ বার্তা প্রদান

প্ল্যাটফরম চালু করতে হবে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবকল্যাণে বিমা শিল্পকে ব্যবহার করার জন্য বিমা কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রতারণা থেকে বিমা গ্রাহকদের রক্ষা করতে একটি ঐক্যবদ্ধ বার্তা প্রদান প্ল্যাটফরম চালু করতে হবে। বিমা কোম্পানিগুলো মানবকল্যাণে এবং উত্পাদন ও ঝুঁকিমুক্ত অর্থনীতি গড়ে তুলতে তাদের বীমা কোম্পানি ব্যবহার করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। গতকাল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত বিমা সংক্রান্ত ১৫তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যের অপ্রাপ্যতা বিমা গ্রাহকদের জন্য বড়ো সমস্যা। বিমা শিল্পে গ্রাহকদের আস্থার অভাব রয়েছে। কারণ তারা যতগুলো বিমা কিস্তি জমা দিয়েছে, তার সবগুলো কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে আদৌ জমা হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে অন্ধকারেই থেকে যায়। তিনি বলেন, ‘এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে একটি ঐক্যবদ্ধ বার্তা প্রদান প্ল্যাটফরম চালুর প্রক্রিয়া চলছে।’

মিউনিক রি ইন্সুরেন্স এবং মাইক্রোইন্স্যুরেন্স নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। ৪২টি দেশের প্রায় চার শতাধিক বিশেষজ্ঞ এবং প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স ডেভেলপমেন্ট রেগুলেটরি অথরিটির চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী প্রমুখ বক্তৃতা করেন। মিউনিখ রি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান টমাস লোস্টার এবং মাইক্রোইন্সুরেন্স নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান ডবল চেম্বারলিনও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বিআইএ সভাপতি শেখ কবির হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সংগঠনের সহসভাপতি রুবানা হামিদ স্বাগত বক্তৃতা করেন।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম: বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: সরকার পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে মন্ত্রী এলজিইডির তত্ত¡াবধানে নির্মিত বান্দরবান সদর উপজেলার যৌথখামার-নীলাচল-মিলনছড়ি রাস্তার (চেই:০০মি:-৩০০০মি:) কার্পেটিং দ্বারা রাস্তার উন্নয়ন ও সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় হতে সুলতানপুর পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন ও কাজের ভিত্তিপ্রস্তর, সুয়ালক উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন এর ভিত্তিপ্রস্তর সহ ৫ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্থর শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শফিউল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজোয়ানুল হক, বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নোমান হোসেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একে এম জাহঙ্গীর, সদর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান ও সুয়ালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান, পার্ত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মুহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লক্ষিপদ দাশ, জেলা পরিষদের সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর, পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি অমল কান্তি দাশ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন, প্রথম শ্রেনির ঠিকাদার শৌরভ দাশ শেখর,, সুয়ালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক,এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ বান্দরবানে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। পার্বত্য মন্ত্রী আরো বলেন, সরকার পার্বত্য এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষে নতুন রাস্তা ,রাস্তা প্রস্থত করণ ও নতুন আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। মন্ত্রী সদর উপজেলার সুয়ালক ও টংকাবতি ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রায় ১৫ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে যৌথখামার-নীলাচল রাস্তার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও টংকাবতি ভায়া চিম্বুক আরএন্ড এইচ পর্যন্ত ও নীলাচল- মিলনছড়ি রাস্তার উন্নয়ন ও সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় হতে সুলতানপুর পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন ও কাজের ভিত্তিপ্রস্তর সুয়ালক উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন এর ভিত্তিপ্রস্তর সহ ৫ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্থর করেন। পরে তিনি সুয়ালক সুলতাপুর এলাকায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

বান্দরবান সদর উপজেলায় ৫টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্ধোধন করলেন পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536