সান্তাহারে গণ ধর্ষনের ঘটনায় থানায় মামলা

সান্তাহারে গণ ধর্ষনের ঘটনায় থানায় মামলা

নেহাল আহম্মেদ প্রান্ত,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : নওগাঁ জেলার পার্শবতী এলাকা বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের তিয়রপাড়া গ্রামের নিকট এক নারীকে (২০) গণ ধর্ষনের ঘটনায় আদমদীঘি থানায় ধর্ষন মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার ধর্ষনের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে পাঁচজনের নামে এবং অঞ্জাত আরো কয়েকজনকে আসামী করে এই মামলা দায়ের করেন। আসামীরা হলেন, সান্তাহার শহরের রথবাড়ি মহল্লার সৈয়দ আলীর ছেলে জহুরুল (২৫), আযুব আলীর ছেলে নাহিদ (২৫), মো. শহাজাহান আলীর ছেলে জুয়েল রানা (২২), নাজির খানের ছেলে পান্না (১৯) এবং আব্দুল মমিন (২৫) পিতা অজ্ঞাত।
গত ৮ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধা সাড়ে ৭টার দিকে ৮ থেকে ১০ জন দুর্বৃত্ত ওই নারীকে একটি ভ্যান থেকে জোড় পূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে পাশের একটি খালের পাড়ে পালাক্রমে ধর্ষন করে ফেলে রেখে যায়। পরে  ওই নারীর স্বজনরা সংবাদ পেয়ে  তাকে খালের পাড় থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। বর্তমানে ওই নারী নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ জুয়েল হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ওই নারীর পরিবার উপজেলার সান্তাহার শহরের রেলওয়ে ইয়ার্ড কলোনীতে বসবাস করেন। তিনি  সান্তাহার শহরের একটি  বিনোদন কেন্দ্রে পান-সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্যে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার এক বছর বয়সের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
রোববার সন্ধায় সে দোকান বন্ধ করে চাচাতো ভাইকে সাথে নিয়ে শহর পাশের কাশিমালা গ্রামে তার অসুস্থ্য ফুফুকে দেখতে যাচ্ছিলেন। তাদের বহন করা ভ্যানটি সন্ধা সাতটার দিকে শহরের তিয়রপাড়া খাড়ির ব্রিজ এলাকায় পৌঁছা মাত্র সেখানে অবস্থান করা ৮ থেকে ১০জন দুর্বৃত্ত ভ্যান আটকিয়ে তার ভাই ও  ভ্যান চালককে ধরে মারপিট করে টাকা ও  মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়।
মারপিটের এক পর্যায়ে ভ্যান চালক ও তার ভাই সেখান থেকে পালিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে অপহরন করে পাশের খালের পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষন করে। এক পর্যায়ে ওই নারী অজ্ঞান হয়ে গেলে ধর্ষকরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে মুঠোফোনে ওই নারীর চাচাতো ভাই বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ধানের এক পর্যায়ে  রাত সাড়ে ১০টার দিকে  খালের বাঁধ থেকে ওই নারীকে অসুস্থ্য ও অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই ওই নারীকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আদমদীঘি থানার ওসি মো: জালাল উদ্দীন বলেন, মামলার অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536