যে কারণে লিথিয়াম সোনার চেয়েও দামি!

যে কারণে লিথিয়াম সোনার চেয়েও দামি!

অনলাইন ডেস্ক: মানুষ লিথিয়ামের কথা জানে দুইশ’ বছর ধরে। তবে এর গুরুত্ব বুঝতে শুরু করছে মাত্র কিছুদিন আগে, যখন থেকে লিথিয়াম ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যাটারি বানাতে। অনেকেই ইতিমধ্যে একে ডাকতে শুরু করেছেন এ যুগের স্বর্ণ বলে! প্রাচীনকালে কোনো পদার্থের দাম নির্ধারিত হতো তার স্থায়িত্ব দিয়ে। তাই ধাতব পদার্থের দাম ছিল সবচেয়ে বেশি।

যে ধাতুগুলো সহজে বাতাস, পানি বা পরিবেশের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না সেগুলোর মূল্যই ছিল সবচেয়ে বেশি। যেমন স্বর্ণ সহজে কারও সঙ্গেই বিক্রিয়া করে না, তাই তা অনেক দামি। অপরদিকে, লোহা খুব সহজেই পানি আর অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে হয়ে যায় মরিচা। তবে পদার্থের দামের এই ধারণায় পরিবর্তন আসতে শুরু করে শিল্পায়নের সঙ্গে সঙ্গে।

বিশ্বজুড়ে যত শিল্পায়ন হয় ততই বাড়তে থাকে শক্তির চাহিদা। যে পদার্থ শক্তি উৎপাদনে যত বেশি ব্যবহার্য, তার দাম নির্ধারিত হয় তত বেশি। হঠাৎ করেই তাই ধনী হয়ে যায় মধ্যপ্রাচ্য, বিশাল তেলের খনি আবিষ্কার হওয়ায়। শক্তির উৎস হিসেবে চমৎকার হওয়ায় কয়লাকে অনেক আগে থেকেই ডাকা হয় কালো সোনf বলে। অপরদিকে পারমাণবিক শক্তির উৎস ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়াম হয়ে ওঠে সবচেয়ে দামি মৌল।

ইতিহাসের নতুন নতুন আবিষ্কার সবকিছু বদলে দেয়। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির যুগ শুরু হওয়ায় মনে হচ্ছে আরেকটা বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এখন অধিকাংশ ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি শক্তি পাচ্ছে এই লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থেকেই। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির সাফল্য এত বেশি যে সবাই বুঝতে পারছেন, কিছুদিনের মধ্যে সব ইলেকট্রিক যন্ত্র চালিত হবে লিথিয়াম দিয়ে, যার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।

পৃথিবীপৃষ্ঠে সব জায়গায় লিথিয়ামের ঘনত্ব সমান নয়। ধারণা করা হচ্ছে, আন্দিয়ান বা মার্কিন দেশগুলোতে আছে লিথিয়ামের বড় ধরনের মজুত। তার মানে হল এই দেশগুলো হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যৎ মধ্যপ্রাচ্য! আলোচনার টেবিলে নবীন হলেও লিথিয়ামের গল্প আসলে খুব প্রাচীন। বিগব্যাংয়ের পরপরই হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের সঙ্গে অন্য যে মৌলটি তৈরি হয়েছিল তা ছিল লিথিয়াম।

পরিমাণে অল্প হলেও প্রাচীনত্বের গৌরবের অংশীদার তো! এরপর নক্ষত্রে চলা নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ায় হাইড্রোজেন বা হিলিয়াম থেকেও তৈরি হয়েছে লিথিয়াম। তৈরি হয়েছে বেরিলিয়াম বা অন্য কোনো মৌলের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ থেকেও। প্রাণীদেহ সৃষ্টিতে কার্বন, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ না হওয়ায় লিথিয়ামের পরের গল্প মানুষের চোখে পড়ে মাত্র দুইশ’ বছর আগে।

১৮০০ সালে পেটালাইট নামক একটি খনিজ আবিষ্কৃত হয়। রসায়নের ইতিহাসে বিখ্যাত ব্যক্তি জ্যাকব বার্জেলিয়াসের ছাত্র জোহান অগাস্ট আরফেডসন পেটালাইট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ১৮১৭ সালে আবিষ্কার করেন লিথিয়াম। বার্জেলিয়াস এর নাম দেন ‘লিথোস’। গ্রীক শব্দ লিথোসের অর্থ পাথর। লিথিয়ামের চমৎকার ভৌত, রাসায়নিক ও তড়িৎ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের জন্য ব্যাটারির বাইরেও নানান ব্যবহার আছে।

যেমন- লিথিয়াম নায়োবেইট ব্যবহৃত হয় অরৈখিক আলোকবিজ্ঞানে। প্রকৌশলে লিথিয়াম ব্যবহৃত হয় উচ্চতাপমাত্রার লুব্রিক্যান্ট হিসেবে, সংকর ধাতু মজবুত করতে বা তাপ পরিবহনে। রাসায়নিক শিল্পেও রয়েছে লিথিয়ামের বহুল ব্যবহার। জৈব লিথিয়াম একটি শক্তিশালী ক্ষার ও নিওক্লিওফাইল, নানা বস্তু বানাতে এর গুরুত্ব অনেক।

আধুনিক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পলিমার। পলিমার তৈরিতে জৈব লিথিয়ামের ভূমিকা অন্যতম। লিথিয়াম প্রভাব ফেলে মানুষের নার্ভাস সিস্টেমেও, তাই মুড স্ট্যাবিলাইজিং ওষুধ বাতেও আছে লিথিয়ামের ব্যবহার। লিথিয়ামের তেজস্ক্রিয় বিকিরণে উৎপন্ন হয় হাইড্রোজেনের আইসোটোপ ট্রিটিয়াম,তাই নিউক্লিয়ার গবেষণাতেও গুরুত্বপূর্ণ এই ধাতু।

লিথিয়ামের এত এত ব্যবহারের দরুন প্রতিবছর ৭ থেকে ১০ শতাংশ বাড়ছে এর বৈশ্বিক চাহিদা। বর্তমানে লিথিয়াম কার্বনেটের বার্ষিক চাহিদা প্রায় পৌনে দুই লাখ টন। যার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ব্যবহার হয় ব্যাটারি তৈরিতে। জলবায়ুর পরিবর্তন নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন হওয়ায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সবাই দিন দিন ঝুঁকছে বিকল্প উৎসের দিকে।

এক হিসাবে ২০৫০ সালের মধ্যে সব গাড়ি জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে চলবে ব্যাটারিতে। বলাবাহুল্য এক্ষেত্রে লিথিয়ামের গুরুত্ব ও চাহিদাও বাড়বে বহুগুণ। অপরদিকে, নিউক্লিয়ার ফিউশনে ডিউটোরিয়ামের পাশাপাশি ব্যবহার করা যেতে পারে ট্রিটিয়াম। সেক্ষেত্রে লিথিয়ামের চাহিদা বাড়বে আরও, যেহেতু ট্রিটিয়ামের একটি কার্যকরী উৎস তেজস্ক্রিয় লিথিয়াম।

খনিজ পাথর থেকে লিথিয়াম আহরণ খুবই ব্যয়বহুল ব্যাপার। সাগরের পানিতেও যথেষ্ট পরিমাণ লিথিয়াম লবণ আছে, কিন্তু সেখান থেকেও পরিশোধন কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। তাই লিথিয়াম প্রধানত (প্রায় ৮৩ শতাংশ) লবণাক্ত লেক বা সল্ট প্যান থেকেই আহরিত হয়। প্রথমে, লবণাক্ত পানিকে সূর্যতাপে বাষ্পীভূত করে লিথিয়াম লবণের ঘনত্ব বাড়ানো হয়। এরপরে একে সোডার(সোডিয়াম কার্বনেট) সঙ্গে বিক্রিয়া করালে নিচে জমা হয় লিথিয়াম কার্বনেট। তারপর লিথিয়াম কার্বনেট পাঠিয়ে দেয়া হয় নির্দিষ্ট শিল্প কারখানায়।

পৃথিবীতে মোট কতটুকু লিথিয়াম মজুত আছে তার সঠিক হিসাব কারো কাছে নেই, এমনকি এই হিসাব করাও অত্যন্ত কঠিন। তবে প্রতিবছর যে পরিমাণ লিথিয়াম পরিশোধিত হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে বছরে উৎপাদিত গাড়ির সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। সব গাড়ি যদি হাইব্রিড কারে রূপান্তরিত করা হয়, তাতেও লিথিয়াম কার্বনেটের উৎপাদন করতে হবে দ্বিগুণ!

হাইব্রিড গাড়ি হলো জীবাশ্ম জ্বালানি ও লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির সমন্বয়ে চলা গাড়ি। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির শক্তি সাত কিলোওয়াট ঘন্টা। প্রতি কিলোওয়াট ঘন্টা শক্তির জন্য প্রয়োজন প্রায় ৮০০ গ্রাম লিথিয়াম কার্বনেট। এসব সংখ্যা ভয় ধরানো। কারণ খুব সহজে ধারণা করা যায় যে, লিথিয়ামের মজুত যতই থাকুক, চাহিদার সমান লিথিয়াম উৎপাদন খুবই কঠিন হবে। সম্ভবত কয়েক যুগে ফুরিয়েও যাবে।

এর থেকে উত্তরণের উপায় হতে পারে নতুন ব্যাটারি প্রযুক্তির আবিষ্কার। তাতে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির উপর নির্ভরতা কমবে। আরেকটি উপায় হতে পারে লিথিয়াম রিসাইক্লিং বা পুন প্রক্রিয়াকরণ। আশার কথা হলো, লিথিয়ামের গলনাঙ্ক মাত্র ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়ায় এর রিসাইক্লিংও বেশ সহজ। একইসঙ্গে লিথিয়ামের ক্লোরাইড, কার্বনেট বা ফসফেট যৌগের পানিতে দ্রাব্যতা কম হওয়ায় এর রিসাইক্লিং আরো সহজসাধ্য।

তাই একটি কার্যকর রিসাইক্লিং পদ্ধতি আবিষ্কার করতে পারলে এবং সহজ পরিশোধন পদ্ধতি বের করতে পারলে লিথিয়াম-আয়ন নিঃসন্দেহে বিপ্লব এনে দেবে। শতবর্ষ আগে মধ্যপ্রাচ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির বিশাল আধার আবিষ্কারের পরে ভূ-রাজনীতি ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছিল। লিথিয়াম সম্ভবত এমন কিছুই করতে যাচ্ছে! জলবায়ুর পরিবর্তন নিয়ে দুশ্চিন্তাতেও হয়তো কিছু আশার বাণী শোনা যাবে। তাই লিথিয়ামকে এই শতাব্দীর স্বর্ণ বললে মোটেও বাড়াবাড়ি হবে না। আসলে লিথিয়াম সোনার চেয়েও দামি।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতাঃ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালে সৃষ্ট সংকটে মানুষের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করে জনসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সৈয়দপুর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শিল্পপতি দিলনেওয়াজ খান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে করোনা মোকাবেলায় সর্বাত্মকভাবে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
সরকারী অনুদান বা দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে না থেকে তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে সার্বিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন হাজার হাজার মানুষের দিকে। তার দেয়া ত্রাণ থেকে বাদ পড়েনি বাঙ্গালী উর্দুভাষী তথা কোন শ্রেণিপেশার মানুষ। দলীয় বাছ বিচার না করে তিনি সর্বস্তরের সৈয়দপুরবাসীর প্রতি মানবিক দৃষ্টি ভঙ্গিতে আত্মার টানে এগিয়ে গেছেন তাঁর চিরাচরিত অভ্যাসবশত। যে কারনে তাঁর সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে নিজস্ব বন্ধু বান্ধব ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে। যা সৈয়দপুরের প্রতিটি মানুষের মাঝে আন্তরিক নাড়া দিয়েছে। সহায়তাপ্রাপ্তরা ছাড়াও সব মানুষের মুখে মুখে তাই তার কর্মকাণ্ড উদাহরণ হিসেবে উঠে আসছে যে কোন আলোচনায়।
কোভিড-১৯ এর প্রভাবে চরম ক্রান্তিকালে অসহায় দরিদ্রদের দ্বারে দ্বারে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী তুলে দিয়েছেন তাদের হাতে। কর্মহীন হয়ে পড়া স্বল্প আয়ের মানুষের সাথে সাথে মধ্যবিত্ত শ্রেণির যারা অসহায়ত্বের শিকার হয়েও মুখ ফুটে সহায়তা চাইতে পারছিলেন না তিনি খোঁজ নিয়ে তাদেরকে গোপনে সহযোগিতা করেছেন উদারভাবে।
বাংলাদেশে করোনার শুরু অর্থাৎ মার্চ মাসের শেষ দিক থেকেই নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামেন তিনি। করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচারণা চালানো, মহল্লায় মহল্লায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার বিষয়ে যুব ক্যাম্পিং, পাড়া মহল্লাসহ শহরের সড়কগুলোতে পথচারীসহ যান বাহনের চালক-যাত্রী ও দোকানদার ব্যবসায়ীদের মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, সচেতনতা লিফলেট বিতরণ, সৈয়দপুর শহরের প্রবেশপথগুলোতে যান বাহনসমুহ জীবাণুমুক্ত করনে স্যানিটাইজার ক্যাম্প স্থাপন,  সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ অফিসের প্রবেশ গেটে স্বয়ংক্রিয় জীবাণুনাশক স্প্রে টানেল স্থাপন, প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে জীবাণুনাশক পানি ছিটানোর কার্যক্রম পরিচালনা করেন সম্পূর্ণ নিজস্ব পরিকল্পনায় ও উদ্যোগে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি চলতে থাকে তাঁর খাদ্য, বস্ত্র ও অর্থ সহায়তা কার্যক্রম। প্রায় প্রতিদিনই পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে রান্না করা খাবার, চাল-ডাল-লবন-চিনি-তেল-আটা-সাবান-আলু-পেয়াজ-মরিচসহ নানা নিত্যপন্যের প্যাকেজ ত্রান ও মুরগী বিতরন করা হয়েছে হাজার হাজার মানুষের মাঝে।
ঈদুল ফিতরে শিশুদের পোশাকসহ, শাড়ি-লুঙ্গি-পাঞ্জাবি-শার্ট এবং সেমাই-চিনি-দুধ-পোলওয়ের চালও দেয়া হয়েছে কয়েক হাজার মানুষকে।
এসব করেই খ্যান্ত হননি তিনি। এখন মানুষ কর্মে নিয়োজিত হয়েছে। দিন রাত বাহিরে বের হচ্ছে মানুষ। রাস্তায়, বাজারে, অফিসে জনসমাগম ঘটছে ব্যাপকহারে। কিন্তু এক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার বিষয়ে চরম উদাসীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ও মাস্ক ব্যবহার করতে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য ‘যার মুখে মাস্ক নাই তার কাছে বিক্রি নাই, যার মুখে মাস্ক নাই এমন যাত্রীর প্রয়োজন নাই’ এমন স্লোগান সম্বলিত স্টিকার লাগানোর কার্যক্রম পরিচালনা করছেন প্রতিদিন।
এসব কার্যক্রম বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সহ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় দলীয় ওয়েব সাইটেও প্রকাশিত হয়েছে।
সৈয়দপুর উর্দুভাষীদের ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও উর্দু কবি মাজিদ ইকবাল বলেন, ছাত্র জীবন থেকেই দিলনেওয়াজ খান চরম জনপ্রিয় একজন নেতা। উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন তিনি সৈয়দপুরের রাজনৈতিক মাঠে নৈতিকতা ও আদর্শের ভিত্তিতে দাপটের সাথে বাঙালি জাতীয়তাবাদ তথা আওয়ামী রাজনীতির নব উত্তরণ ঘটিয়েছেন। যুবলীগের আহ্বায়ক হয়ে এখন তিনি সেই ভিতকে আরও মজবুত করে চলেছেন। এর পাশাপাশি তিনি কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে জনসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছেন রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আগে থেকেই। তারই ধারাবাহিকতায় চলমান করোনা পরিস্থিতিতে তিনি সৈয়দপুরের ইতিহাসে জনসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দলীয় অন্যান্য নেতারা যেখানে সরকারি ত্রাণ নিয়ে নিজের নামে বিতরণ করেছেন। সেখানে দিলনেওয়াজ খান প্রথম থেকেই এখন পর্যন্ত সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন নিজের টাকায়। তাঁর ব্যাপক কার্যক্রমের ফলে শহরজুড়ে একটা আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এতে টনক নড়ে দলের নেতাদের। শেষের দিকে এসে কেউ কেউ নিজেদের ইমেজ সংকট কাটাতে ত্রাণ দেয়াা শুরু করে। তাও আবার বিভিন্ন কোটায় সরকারী বরাদ্দ নিয়ে। যা সচেতনমহল সহ সর্বসাধারণের দৃষ্টিগোচর হয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের প্রয়াস হিসেবে। দিলনেওয়াজ খান যেভাবে উদারতার সাথে নিঃস্বার্থ জনসেবা উপস্থাপন করেছেন তা প্রতিটি মানুষের হৃদয় জয় করেছে। তিনি যে পরিমান সহায়তা করেছেন তা যদি ব্যক্তি উদ্যোগে দেয়া ত্রাণ প্রদানের পরিসংখ্যান করা হয় তাহলে আমার মনে হয় দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবে।
জনমুখী এমন বিস্তারিত কর্মকাণ্ড অন্য কোন নেতা করতে পারেনি। দীর্ঘ মেয়াদী বিশাল ত্রাণ বিতরণ কর্মযজ্ঞ পরিচালনায় কোথাও কোন প্রকার বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি। অথচ সরকারী ত্রাণ বিতরণসহ অন্যদের বেলায় দেখা গেছে নানা অনিয়ম। এমনকি একজনতো সরকারি ত্রাণ নিয়ে দেয়ার জন্য দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে মোটর সাইকেলের তেল খরচ বাবদ ১০০ টাকা করে নিয়েছে। অনেকের কাছ থেকে ত্রাণ না পেয়ে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিলও হয়েছে। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র পরিচ্ছন্ন ও দৃঢ় নেতৃত্বের কারনে দিলনেওয়াজের বেলায় এমন কিছুই ঘটেনি।
সৈয়দপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুমন আরিফুর আনোয়ার বলেন, যে কোন সংকট মূহুর্তে সৈয়দপুরের জনগনের পাশে থেকে নিবেদিত প্রান হিসেবে কাজ করেছে দিলনেওয়াজ খান। করোনা সংকটেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এবার তার যে ভুমিকা তা সৈয়দপুরের ইতিহাসে বিরল। কোন নেতাই তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি। এছাড়াও দলীয় কর্মকাণ্ডে তার অবদান অতুলনীয়। যা সৈয়দপুর আওয়ামীলীগসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কেউই কোনদিন ভুলতে পারবেনা।
পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, দিলনেওয়াজ খানের করোনাকালীন ব্যাপক কার্যক্রম সৈয়দপুরবাসী দেখেছেন। তারাই তার মূল্যায়ন করবে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোখছেদুল মোমিন বলেন, দিলনেওয়াজ খান ৯৬ এর গণ আন্দোলনের সময় থেকে প্রতিটি সময়েই বলিষ্ঠ ভুমিকা রেখে চলেছে। করোনার প্রেক্ষিতে সে যেভাবে মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে তা অভূতপূর্ব। উপজেলা আওয়ামীলীগের কেউ এমন অবদান রাখতে পারেনি।
দিলনেওয়াজ খান সব সময়ই সমাজ সেবা মূলক কাজ করে চলেছে। দরিদ্র মানুষের মেয়ের বিয়ে, গরীব অসহায় মানুষের চিকিৎসা ও মেধাবী শিক্ষার্থীর ভর্তি-ফরম ফিলাপ, বই কিনে দেয়া ও পড়াশোনার খরচ বহন সহ যখন যেই তার শরণাপন্ন হয়েছে কেউই বিমুখ হয়নি। এভাবে সে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর যাবত জনমানুষের সেবায় নিয়োজিত।
উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক দিলনেওয়াজ খান এ ব্যাপারে বলেন, আমরা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক। তাঁর রাজনীতিই ছিল জনমানুষের জন্য। তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা জনসেবার উদ্দেশ্যেই রাজনীতি করি। করোনা প্রাদুর্ভাবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সার্বিকভাবে সচেষ্ট থেকেছি। তারই আলোকে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। মূলতঃ আমার বড় ভাই আমেরিকা প্রবাসী মরহুম পারভেজ খান সৈয়দপুরবাসীর জন্য যেভাবে নিবেদিতপ্রান ছিলো আপনারা সবাই জানেন। তাঁর সেই মানসেবার ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছি মাত্র। আমরা শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী মানুষ।উত্তরাা ইপিজেড এ কেপি এন্টারন্যাশনাল নামে আমার ফ্যাক্টরী আছে। সেই সাথে রয়েছে  আমদানী-রফতানী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।        রাজনীতি করে অর্থ উপার্জনের কোন প্রয়োজন নেই। আমাদের রাজনীতির একমাত্র লক্ষই হচ্ছে মানুষের সেবা করা।
তিনি বলেন,  গত ফেব্রুয়ারিতে বাড়ি করার জন্য কিছু টাকা গচ্ছিত রেখেছিলাম। এমতাবস্থায় করোনা দেখা দেয়ায় সেই টাকাটাই ত্রাণ বিতরণের কাজে লাগিয়েছি। আজীবন এভাবেই জনগনের সেবা করে যেতে চাই। এজন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের করুনা প্রার্থনা করি। সেই সাথে সৈয়দপুরবাসীর দোয়া চাই।

শুধু দলের নয় আপামর জনতার নেতায় পরিণত হয়েছেন যুবলীগের আহবায়ক দিলনেওয়াজ খান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536