নিজেকে সতেজ রাখতে

নিজেকে সতেজ রাখতে

বাইরে বের হলেই ধুলাবালু আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। নিজেকে সতেজ রাখার জন্য বাইরে থেকে ফিরে সবার আগে পরিচ্ছন্ন হতে হবে। বিশেষ করে কোনো কিছু খাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধোয়া যেমন দরকার, একইভাবে নিজের সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা জন্য গোসল করা জরুরি।

নিয়মিত গোসল
নিয়মিত গোসল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। হোক সেটা ঠান্ডা বা গরম পানিতে। নিয়মিত গোসল করলে একাধিক উপকার পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে বেশ কিছু জটিল রোগও দূর হয়। নিয়মিত গোসল করলে মস্তিষ্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে স্মৃতিশক্তি এবং বুদ্ধির বিকাশ ঘটে চোখে পড়ার মতো। টানা ৩ সপ্তাহ, দৈনিক ২০-৩০ মিনিট গরম পানিতে গোসল করলে রক্তে শর্করার মাত্রা প্রায় ১৩ শতাংশ কমে যায়। ফলে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না। প্রতিবার ঠান্ডা পানি মাথায় ঢালার সময় ফুসফুস সংকুচিত হয়ে যায়। এমনটা বারবার হওয়ার কারণে অক্সিজেনের সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। হালকা গরম পানিতে অথবা ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে পেশির চোট সারতে শুরু করে। সেই সঙ্গে তারা পুনরায় চাঙা হয়ে ওঠে। পেশির সচলতা বৃদ্ধির পেছনে গোসলের যে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। হালকা গরম পানিতে গোসল করলে সারা শরীরে রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে হৃদ্​যন্ত্রের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়। নিয়মিত উষ্ণ গরম পানিতে গোসল শুরু করলে রক্তচাপও স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

হাত ধোয়া
● নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য হাত ধোয়া উচিত। বিশেষ করে খাবার তৈরি করার আগে, মাঝখানে এবং পরে হাত ধোয়া উচিত।
● খাওয়ার আগেও হাত ধোয়া উচিত এবং অসুস্থ কারও সেবা করার আগে ও পরে।
● শরীরের কাটাছেঁড়া বা ক্ষতের চিকিৎসা করার আগে ও পরে।
● পায়াখানা–প্রস্রাবের পরে।
● ছোট ছেলে বা মেয়ের ডায়াপার বদলানো বা পায়খানা পরিষ্কারের পরে।
● নাক ঝাড়া, কফ ফেলা বা হাঁচি দেওয়ার পরে। কোনো পশুপাখি বা পশুপাখির খাবার বা পশুর বিষ্ঠা ধরার পরে।
● আবর্জনা ধরার পরে।
● পরিষ্কার রাখার জন্য শুধু হাত ধুলেই হবে না। ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। ভালোভাবে হাত ধোয়ার জন্য পরিষ্কার পানিতে হাত ভিজিয়ে হাতে সাবান দিতে হবে। এরপর হাতে হাত ঘষে ফেনা তৈরি করে আঙুলের ফাঁকে, নখের মধ্যে পরিষ্কার করতে হবে। অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ডলে পরিষ্কার করুন। পরিষ্কার চলমান পানিতে হাত ধোয়া উচিত। এরপর পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে হাত মুছুন অথবা বাতাসে শুকিয়ে নিন। হাত ধোয়ার ফলে ডায়রিয়ার ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেয়। হাত ধোয়া বিভিন্ন রোগের সংক্রমণের হাত থেকে আমাদের বাঁচায়। হাত না ধুয়ে খাবার তৈরি বা পরিবেশন করলে হাতে থাকা জীবাণু খুব সহজেই খাবারে প্রবেশ করতে পারে। সেই খাবার খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। কিছুক্ষণ পর পর হাত ধোয়া ডায়রিয়া, শ্বাসনালির সংক্রমণ, ত্বক ও চোখের সংক্রমণ থেকে বাঁচায়। শিশুদের হাত ধোয়ার অভ্যাস তাদের বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে বাড়াতে সাহায্য করে।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536