​সেতুর অভাবে রশি টেনে দুই যুগ ধরে নদী পার ১০ গ্রামের মানুষের

Uncategorized
শেয়ার করুন

খেয়া ঘাটের এপার থেকে ওপার একটি শক্ত রশি টাঙানো হয়েছে। নৌকার উপর উঠে রশি টেনে টেনে পার হচ্ছেন বেশ কয়েকজন যাত্রী। বর্ষা মৌসুমে এভাবেই পার হয়ে থাকেন ১০/১২টি গ্রামের অন্তত ২৫ হাজার মানুষ। আর শুষ্ক মৌসুমে পার হতে হয় বাঁশের সাঁকোয়। একটি সেতুর অভাবে এখনও এ অঞ্চলের মানুষকে দুই যুগেরও অধিক সময় ধরে এভাবেই নদী পার হতে হচ্ছে।

 

সরেজমিনে গিয়ে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের কেসি ফরিদপুর খেয়াঘাটে এমন দৃশ্য দেখা যায়। বিকল্প পথ যেটা আছে সেটা দুর্গম। বিলের মধ্য দিয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পারি দিয়ে উঠতে হয় মূল পাকা সড়কে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষকে জেলা বা উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে ফুলজোড় নদী পার হতেই হয়। যার কারণে এভাবেই নদী পার দিতে হচ্ছে তাদের।

 

এসময় কথা হয়, পূর্ব ফরিদপুর গ্রামের বয়োবৃদ্ধ জহির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা যখন যুবক ছিলাম, তখন থেকেই শুনতাছি ব্রিজ হইবো। কিন্তু হয় না। নেতারা খালি ভোটের সময় এসে ব্রিজের কথা বলে। ভোট শেষ হয়ে গেলে আর আসে না।

কেসি ফরিদপুরের শহীদুল ইসলাম বলেন, বাপ-দাদার জীবন তো গেছেই। আমাদেরও জীবন কেটে গেল বাঁশের সাঁকো আর নৌকায় নদী পার দিয়ে। ছেলেমেয়েরা এই ঘাটে ব্রিজ দেখতে পারবেন কিনা সেটা বলতে পারি না।

 

একই গ্রামের রোজিনা খাতুন, কল্পনা খাতুন, রফিকুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম,কেসি ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র আরিফুল ইসলাম, তানভীর ও মনিরুল ইসলাম এবং কাঁঠালবাড়ীয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে তাদের এ দুর্ভোগের কথা জানা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *