সৈয়দপুরে সারের জন্য কৃষকদের বিক্ষোভ 

রংপুর
শেয়ার করুন
মোঃ জাকির হোসেন, নীলফামারী প্রতিনিধিঃসরকারি বরাদ্দকৃত সার না পাওয়ায় বিক্ষোভ করেছে কৃষকরা। ডিলার পয়েন্টে উপস্থিত হয়ে তারা ট্রাক থেকে সার আনলোডে বাধা দেয় এবং দ্রুত সার বিতরণের দাবী জানান। তারা অভিযোগ করেন যে দীর্ঘ ৫ বছর যাবত এই ডিলার সার উত্তোলন না করে কৃষি বিভাগের সাথে যোগসাজশে কালো বাজারে বিক্রি করে দেন। ফলে কৃষক বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে সার কিনে জমিতে ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। প্রায় ৩ ঘন্টা পরে কৃষি বিভাগ ও পুলিশের হস্তক্ষেপে কৃষকদের সার দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে ১০ আগস্ট মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের হাজারীহাট এলাকায়। উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে হুগলিপাড়ার জোবাইদুল ইসলাম (৫৫), জেলে পাড়ার অনীল চন্দ্র দাস (৬৫), হাজারীহাটের পাকাধারার ইলিয়াস চৌধুরী ভলু অভিযোগ করেন যে, বিসিআইসি’র হাজারীহাটের রাসায়নিক সার ডিলার মেসার্স লাকী ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী মিসেস সালেহা বেগম সার না তোলার কারণে তার কাছ থেকে এলাকার কোন কৃষকই সার পান না। গত ৫ বছর যাবত তিনি কৃষি অফিসের সাথে যোগসাজশে কালো বাজারে সার বিক্রি করে দেন। সরকার সার বরাদ্দ দেয় কৃষকদের।অথচ ডিলাররা তা তসরুফ করে সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে চলেছে।
এবারও সেইভাবে সার তুলে গুদামজাত করার খবর পেয়ে এলাকার কৃষকরা সমবেত হয়েছি। আগে আমাদেরকে সার দিতে হবে। তারপর গুদামে রাখা হোক। কারণ গুদাম থেকে যে সার গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হবেনা, এর নিশ্চয়তা নেই। কারণ ডিলার আব্দুস সালামের দোকান ভাড়া নিয়েছে মাত্র এক মাসের জন্য। এরপর হয়তো সে আবারও গা ঢাকা দিবে। তারা শহরে থাকে। আমরা তাদের কখনোই কাছে পাইনা।
এমতাবস্থায় ট্রাক থেকে আনলোড করতে না পেয়ে ডিলার সালেহা বেগমের ছেলে প্রিন্স মাহমুদ বিষয়টা কৃষি বিভাগকে জানালে উপজেলা কৃষি অফিসার শাহিনা বেগম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মমতা সাহা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে থানায় খবর দেয়া হয়। পরে সৈয়দপুর থানার এসআই রেজাউল করিম সঙ্গীয় ফোর্স সহ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল চৌধুরী বুলবুল ও ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) নুরন নবীর সমন্বয়ে কৃষকদের সার দেয়ার প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে কৃষকরা বিক্ষোভ বন্ধ করে। 
 
ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল চৌধুরী বুলবুল বলেন, কৃষি অফিসের লোকজনের কারণেই ওই ডিলার এমন ঘাপলা করার সাহস পেয়েছে। কৃষকের সার পয়েন্টে না আনার পরও কিভাবে তার ডিলারশীপ বহাল তা খুবই আশ্চর্যজনক ব্যাপার। কয়েক দিন যাবত কৃষকরা তাদের সমস্যার কথা আমাকে জানান। তাই কৃষকদের কথা ভেবে বিভিন্ন অফিসে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। তারই প্রেক্ষিতে কৃষি অফিস এবার বাধ্য হয়ে ডিলার পয়েন্টে সার নিয়ে এসেছে। এখন এই সার কৃষকদের মাঝে সঠিকভাবে বিতরণ করে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
 
এসময় উপজেলা কৃষি অফিসার শাহিনা বেগম জানান, মূলত কৃষি বিভাগের গাফিলতির কারনেই কৃষকরা সার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বিষয়টা খতিয়ে দেখা হবে এবং এজন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
তিনি আরও বলেন, প্রতি মাসে চাহিদা অনুযায়ী সারের বরাদ্দ দেয়া হয়। সে অনুযায়ী ৫ টন (১০০ বস্তা) বরাদ্দ পেয়েছে এই ডিলার। এবার অবশ্যই কৃষকদের সার দেয়া হবে।  
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সার মনিটরিং কমিটির সভাপতি মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, আমি নতুন এসেছি। আজকেই দায়িত্ব নিয়েছি। কৃষি অফিসারের সাথে কথা বলতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *